তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জনগণের স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসী উল্লসিত হলেও পদ্মা সেতু নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারী বিএনপিসহ কতিপয় ব্যক্তি-গোষ্ঠী কি এখন আশাহত, নাকি লজ্জা পেয়ে নিশ্চুপ—এ প্রশ্ন জনগণের।’
তথ্যমন্ত্রী গতকাল শনিবার দুপুরে তার ঢাকাস্থ সরকারি বাসভবন থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘যদিও মানছি দূরত্ব, তবুও আছি সংযুক্ত’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি কমিশনার ইলিয়াস হোসেন ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার যখন পদ্মা সেতুর কাজে হাত দেয়, তখন কোনো অর্থ ছাড়ের আগেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিল। তখন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিএনপিসহ দেশের কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন সভা-সিম্পোজিয়ামে পদ্মা সেতু নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগই মিথ্যা প্রমাণিত হয়।’ ‘বিশ্বব্যাংক পরবর্তীকালে প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চাইলেও প্রধানমন্ত্রী সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তখনো বিএনপিসহ এসব ব্যক্তি-সংস্থার মুখ বন্ধ ছিল না, তারা সব সময়ই এ প্রকল্প নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু গত ১০ ডিসেম্বর পদ্মার দুই পাড় সংযুক্ত হওয়ার পর তাদের আর কোনো বক্তব্য শোনা যাচ্ছে না। তাই জনগণের এখন প্রশ্ন বিএনপিসহ এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান কি লজ্জায় মুখ লুকিয়েছেন, নাকি আশাহত হয়েছেন?’
দেশের বা সরকারের কোনো কাজে ভুল পেলে বিদেশিরা যে সুরে কথা বলেন বিএনপিসহ এসব সংস্থা-ব্যক্তি তার চেয়েও ১০ গুণ সুরে আওয়াজ তোলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের এমন সাফল্যে যেখানে সবাই শেখ হাসিনা ও তার দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন সেখানে তাদের এমন নীরবতাই প্রমাণ করে তারা আসলে আশাহত হয়েছেন।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন জনগণের উদ্দেশে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ এ সেতু করতে পারবে না। আর করতে পারলেও কেউ এ সেতু দিয়ে যাবে না। তাই এখন জনগণের প্রশ্ন—বিএনপির নেতারা কি এখন সেতুর ওপর দিয়ে যাবেন, না নিচ দিয়ে যাবেন।’