নিজের অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুল্যান্স জোটেনি। বাঁচাতে পারেননি মাকে। অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি করিমুল হক। সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, গাড়ির অভাবে গ্রামের আর কাউকে মরতে দেবেন না। সেই থেকে পথচলা শুরু। নিজের মোটরসাইকেল বানিয়ে নেন অ্যাম্বুল্যান্স। চালকের আসনে বসেন তিনি নিজেই। সেই থেকে ভারতের মালবাজারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেই ডাক পড়ে করিমুলের। নতুন নাম হয় ‘অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’।
এবার করিমুল হকের জীবন নিয়ে তৈরি হচ্ছে সিনেমা। যদিও গত দুবছর ধরেই জলপাইগুড়ির পদ্মশ্রী প্রাপ্ত ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ কে নিয়ে সিনেমা তৈরির কথা শোনা যাচ্ছিল। তবে নানান কারণে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। শুক্রবার মুম্বাইয়ে প্রযোজক করিম মোরানির সঙ্গে চুক্তি পর্ব সেরে ফেলেছেন করিমুল হক।
শুক্রবার মুম্বাইয়ের পাঁচতারা হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় ছিলেন পরিচালক বিনয় মুদগাল। তিনিই করিমুলের জীবন নির্ভর ছবির পরিচালক। জলপাইগুড়ির এক অখ্যাত গ্রাম রাজাডাঙার বাসিন্দা করিমুল হক। অ্যাম্বুলেন্স দাদা নামেই পরিচিত তিনি। পদ্মশী পাওয়ার পরই তার পরিচয় গোটা দেশের মানুষ জানতে পারেন।
করিমুল হক জানান, তার জীবনকাহীনী নিয়ে ছবির শুটিং হওয়ার কথা রয়েছে ২০২০র জানুয়ারিতে। কিন্তু লকডাউনে সব হিসাব বদলে যায়। এছাড়া করিমুল হকের চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের। কিন্তু তার মৃত্যুতে সেটাও ভেস্তে যায়। তবে করিমুল হকের চরিত্রে কে অভিনয় করবেন তা এখনও ঠিক হয়নি।
ইত্তেফাক/বিএএফ