১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিন বাংলার দামাল ছেলেরা দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদারদের কাছ থেকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে আনে। যার ফলে বাংলাদেশ নামে নতুন একটি রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই দেশ জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজয়ের ৪৯তম বছরে এসে এই দীর্ঘ পথচলা নিয়ে কী ভাবছে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন— তোফায়েল পাঠান শান্ত
লক্ষ্যই হওয়া উচিত একটি সুখী ও
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
লক্ষ্যই হওয়া উচিত একটি সুখী ও শান্তিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। আমাদের জানতে হবে যুদ্ধে শহিদ হওয়া সেই বীরদের আত্মত্যাগের কথা। তাদের বীরত্বকে সারা বছর সম্মান এবং স্মরণ করতে হবে। শুধু সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশই বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসারী হচ্ছে। আমরা নিজেরা বাঙালি সংস্কৃতি ধারণ করার পাশাপাশি তাদের উদ্বুদ্ধ করতে না পারলে এ লজ্জা আজীবনের। সবশেষে আমাদের জাতীয়তাবাদে পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে। বিজয়ের এই ৪৯তম বছরে এসে আমাদের লক্ষ্যই হওয়া উচিত একটি সুখী ও শান্তিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের।
—মারিয়া ইসলাম সুজানা
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে
আত্মপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ
সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে আত্মপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ। বিজয় মানে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে শহিদের রক্তপিঞ্জরে সার্বভৌম আত্মার বিনিদ্র এক আশ্রম যা আমাদের গৌরবগাঁথার অর্জিত অহংকার। আজ আমাদের গৌরবমাখা অহংকারের ৫০ বছর পূর্ণ হতে চলছে। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের এই অর্জনকে আনন্দের সঙ্গে উদ্যাপন করতে পারছি না, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নিয়ম মেনে করোনাকে জয় করে আবারও আমাদের সেই বিজয়ের দিকে ফিরতে পারব ইনশাআল্লাহ্। বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধশালী একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে আত্মপ্রকাশ করবে সেই প্রত্যাশা করি। আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসব এবং দেশের জন্য কাজ করব।
—শাহআলম
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
অর্জিত গৌরবের স্বাধীনতা
রক্ষা করতে হবে
অর্জিত গৌরবের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা পেরিয়ে অর্জিত হয় প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতা। বিজয় মহাত্তোর, তবে আমাদের দুর্ভাগ্য বঙ্গবন্ধুর মতো নেতাকে আমরা বাঁচতে দেইনি, নিহত হতে হয়েছে ঘাতকের বুলেটের আঘাতে। স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি কিন্তু আমরা স্বাধীনতার মান কতটুকু রাখতে পারছি! দেশ এখন দুর্নীতিতে ভরপুর, আমাদের সোনার দেশটাকে আমাদের-ই রক্ষা করতে হবে। বিজয় দিবসে আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, স্মরণ করতে হবে কত ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আমাদের কোটি বাঙালির দ্বায়িত্ব।
—সাদিয়া আফরিন
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিবেক, মুক্তবুদ্ধির ও মানবতার
জয় হোক
বিবেক, মুক্তবুদ্ধির ও মানবতার জয় হোক। কষ্টার্জিত বিজয়ের ৫০ বছরে পা দেওয়ার প্রারম্ভে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র প্রতিটি বাঙালির অন্তরে ধারণ করতে হবে। এক প্রজন্মের উপহার দেওয়া বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ উপহার দিতে পারে বর্তমান প্রজন্ম! অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক উন্নয়ন আনয়ন সম্ভব না হলে বিজয় উল্লাস বৃথা। সেই সঙ্গে উন্নত করতে হবে আমাদের মানসিকতা, করতে হবে আত্মাকে পরিশুদ্ধ। ব্যক্তিস্বাধীনতার দীনতায় বিজয় দিবস আটকে থাকে উল্লাসে। আরো দরকার উন্নত চরিত্রের নতুন বৌদ্ধিক জাগরণ—নতুন রেনেসাঁ। তাই বিজয়ের এই ৪৯ বছর পূর্তিতে জাগ্রত হোক বিবেক, মুক্তবুদ্ধির হোক বিকাশ, বিজয় হোক মানবতার।
—মো. আশফাকুর রহমান
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে
পারবে না
বাঙালি বীরের জাতি, আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। ৫০তম বিজয় দিবস কড়া নাড়ছে আমাদের দরজায়। এবার করোনার মধ্যে ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হবে বিজয় দিবস। উদ্যাপন করা হবে। বিজয়ের এই পথচলায় ১৯৭১ সালে যে এজেন্ডাগুলো আমাদেরকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। সেই এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের দিকে আমাদের আরো মনোনিবেশ করতে হবে। সবাই দেশকে ভালোবেসে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। বাঙালি বীরের জাতি, আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না। আমরা সবাই স্ব স্ব জায়গা থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং সব দুর্নীতিকে রুখে দিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তুলব।
—শাকিল আহমাদ ইকবাল
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়