আর্তমানবতার ফেরিওয়ালা লিলি

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সৃষ্ট অচলাবস্থায় আয়-রোজাগার কমে যায় মানুষের। রিকশাচালক, দিনমজুরসহ অসহায় নিম্নবিত্তরা পড়ে বিপাকে। আবার, সমাজের মধ্যবিত্তশ্রেণি অর্থকষ্টে থাকলেও পারিপার্শ্বিক লোকলজ্জার ভয়ে সহযোগিতা চাইতে পারেন না। এ দুর্দশায় এক জন নারী খুব সকালে আর সন্ধ্যার পর নিজের বাড়ি থেকে চাল, ডাল, তেল, মরিচ, লবণ, পেঁয়াজসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেন। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করে তাদের গোপনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেন নাটোরের গোপালপুর পৌরসভার বাসিন্দা রোকসানা মোর্ত্তজা লিলি। এটি একান্তই তার নিজস্ব উদ্যোগ, সরকারি প্রণোদনা নয়। লিলির দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটে অন্যের সহযোগিতায়।

মানবিক সহায়তা বিস্তারের জন্য গোপালপুরেই গড়ে তুলেছেন লাভলী ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠনও। তিনি ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা। এই সংগঠন করোনায় সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে অটোরিকশা বিতরণ করে রোজগারের স্থায়ী ব্যবস্থা করে দিয়েছে বেশ কিছু পরিবারকে। শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যাকবলিতদের আর্থিক সহায়তা, অসচ্ছল মানুষের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ প্রদান, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা শারীরিক অসুস্থতায় সাধ্যমতো সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসেন লিলি। সেই কিশোরবেলা থেকে শুরু থেকে জীবনের মধ্য বয়সে এসেও তিনি অপরের সহযোগিতা ও কল্যাণে হয়ে উঠেছেন অনন্য। তাই তো এই এলাকার যে কারও যে কোনো প্রয়োজনে তিনিই হয়ে ওঠেন ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’।

অর্থনৈতিক কর্মে অংশগ্রহণে বাংলাদেশের নারীরা পিছিয়ে আছেন অনেকটাই। মফস্সলের নারীদের টেকসই উন্নয়নে তিনি নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিয়ে কাজ করছেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে নারীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য করেছেন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সুস্থ মানসিকতার তরুণপ্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তরুণদের নিয়ে নিয়মিত ফুটবল-ক্রিকেটসহ নানা খেলাধুলার আয়োজন করেন। প্রায় চার দশক ধরে অনেকটা নিভৃতেই কাজ করে যাচ্ছেন লিলি। তবে আত্মপ্রচার বিমুখ তিনি। সমাজের টেকসই উন্নয়নেই তার দর্শন। আগামীতে আইটি সেক্টরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুরো জনপদকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছেন তিনি। লিলির সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে খুশি এলাকাবাসীও।