মাহবুব শরীফ
এটুআই ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি এসডিজি ট্র্যাকার বিষয়ক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী।
কর্মশালায় আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ এর লক্ষ্য অর্জনে অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে তথ্য-উপাত্ত নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রাধিকারভিত্তিক সম্পদের বরাদ্দ। একটি কার্যকর, তথ্যনির্ভর, বহুল ব্যবহূত, সমন্বিত এসডিজি পরীক্ষণ কাঠামো টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে মূল ভূমিকা পালন করতে পারে। এসডিজি অর্জনে সরকারের অবস্থান ও অগ্রগতি পরিমাপ এবং উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এটুআই কর্তৃক নির্মিত হয় এসডিজি ট্র্যাকার।’ এসডিজি ট্র্যাকারকে আরো কার্যকরী, আরো ভিজুয়ালাইজড স্কিম, সকলের ব্যবহার বান্ধব ও চাহিদা মোতাবেক করার পরামর্শ প্রদান করেন। ডাটা হালনাগাদ ও ডাটার গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। আর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সঠিক ও হালনাগাদ পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন যে, ‘২০১৬ থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে ইউএনডিপি বাংলাদেশসহ আরো ১৭০টি দেশে এসডিজি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এসডিজি সম্পর্কিত সকল কার্যক্রম সমন্বয় করছে এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ নির্মাণ এর মাধ্যমে এসডিজি ট্র্যাকার বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করছে। ইউএনডিপি এসডিজি ট্র্যাকার বাস্তবায়নে এটুআইকে প্রযুক্তিগত সহায়তা করছে এবং এটুআই অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে ট্র্যাকার উন্নয়নে সমর্থন দেয় এটুআই।’
এসডিজি ট্র্যাকারকে একটি অগ্রগতি ট্র্যাকিং এবং রিপোর্টিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করানোর জন্যে এসডিজি থিমেটিক এরিয়া বিশ্লেষণ করা দরকার, যাতে জাতীয় উন্নয়নের তথ্য পেতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতে যোগদান করা উচিত। বাংলাদেশ ইউএনডিপি বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটুআই এর সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তথ্য ও পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী তার বক্তৃতায় বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এসডিজি ট্র্যাকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বিবিএস এবং তথ্য ও পরিসংখ্যান বিভাগ এসডিজি ট্র্যাকারের মাধ্যমে উন্নয়ন পর্যবেক্ষণে এটুআই-এর সাঙ্গে কাজ করে যাবে। সকল মন্ত্রণালয়ের সহায়তা এই ক্ষেত্রে একান্ত কাম্য।’
এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ট্র্যাকারটি আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন। আমরা বিভিন্ন স্ট্যাকহোল্ডারদের কাছ থেকে এর বিভিন্ন বিষয়ে মতামত নিচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কর্মশালা চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট সেক্টর, এনজিও, আইএনজিও-দের নিয়ে একই ধরণের কর্মশালার মাধ্যমে এসডিজি ট্র্যাকারে তাদের প্রয়োজনীয়তা বা চাহিদা নিরূপণ করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী ট্র্যাকার সিস্টেমটিকে সাজানো হবে।’
বিবিএস সদর দপ্তর ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এটুআই-এর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।