রংপুরে জরাজীর্ণ পাবলিক লাইব্রেরি ভবন!

দীর্ঘদিন যাবত্ সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে দেড় শ বছরের পুরাতন রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরি। একসময় বই-পত্রিকার সমারোহ ছিল। ছিলেন হাজার হাজার পাঠক ও প্রথিতযশা সাহিত্যিক। এখন বই, লাইব্রেরিয়ান, জনবল, সংস্কার ও বরাদ্দের সংকটে ধুঁকছে পাবলিক লাইব্রেরিটি। এদিকে গত সোমবার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে পাবলিক লাইব্রেরির কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. আসিব আহসান। সভায় লাইব্রেরির বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম, সদস্য অন্তর্ভুক্তি, জনসম্পৃক্তকরণ কার্যক্রম গ্রহণসহ রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসক রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির ঐতিহ্য সংরক্ষণে ও সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময়ের চার কক্ষবিশিষ্ট লাইব্রেরি এখন অস্তিত্বের সংকটে। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির একটি অন্ধকার কক্ষে মাকড়সার জালে আলমারিতে আটকে আছে বহু নামিদামি লেখকের বই। ২০টি আলমারির আটটিই অচল। মেঝে, চেয়ারে আর কিছু আলমারির ওপরে বস্তাবন্দি বই-পত্রিকার স্তূপ। আধুনিক ডিজিটাল কম্পিউটার, ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তির সেবা তো দূরের কথা, লাইব্রেরির সেবার জন্য কেউ নেই। একজন বৃদ্ধ কেয়ারটেকার আর একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীই এখানকার সব। কেয়ারটেকার আজিজুল ইসলাম সানু বলেন, লাইব্রেরি পরিচালনার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। একজন লাইব্রেরিয়ান ছিলেন, তবে বেতন ঠিকমতো না পাওয়ায় তিনিও চাকরি  ছেড়েছেন। এখন জনবল নেই। পড়ার মতো বই নেই। চারটি পত্রিকা ছাড়া এখানে নতুন বলতে কিছুই নেই।

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির একসময়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী জুননুন বলেন, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরিটি নতুন প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। এর সঙ্গে অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। লাইব্রেরিটি আধুনিক মানের করে রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে লাইব্রেরিমুখী করার জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিফ আহসান বলেন, ইংরেজবিরোধী আন্দোলন, ভাষাসংগ্রাম ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য বহন করে চলা এই পাবলিক লাইব্রেরি। প্রাচীন এই লাইব্রেরি বাঁচিয়ে রাখতে এর পুরাতন অবকাঠামো ঠিক রেখে নতুন করে সংস্কার জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো জানান, জাতীয় গ্রন্থাগারের সচিবের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাচীন এই লাইব্রেরি বাঁচিয়ে রাখতে জাতীয় গ্রন্থাগারের সহযোগিতা নিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন করে পুরাতন ভবন মেরামত করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।