বাংলাদেশে ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিকসহ অসংখ্য টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৪টি বিভাগে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে অনেক বছর হলো। কিন্তু নিয়োগবিধি আগের মতোই চলছে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে। যার জন্য ১৯৯১ পরবর্তী নতুন বিভাগে নিয়োগ হচ্ছে না। তারা সরকারি-বেসরকারি কোথাও চাকরির আবেদনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ৩৪টি বিভাগ থাকলেও নিয়োগ হচ্ছে শুধু চার-পাঁচটি বিভাগে। প্রতিজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর জন্য সরকারের কোষাগার থেকে আট-নয় লাখ টাকা খরচ হয়। দুঃখের বিষয়, নিয়োগবিধি সংস্কার না করায় দেশের উন্নয়নে তাদের মেধা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে না। এরকম ২৩-২৪টি বিভাগ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার বেকার তৈরি হচ্ছে! ৮০ শতাংশ একই সিলেবাস নিয়ে শাখা/রিলেটিভ ডিপার্টমেন্ট চালু করা হয়েছে। শুধু শাখা নামের ভিন্নতায় হাজার হাজার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী বেকার জীবন যাপন করছেন। এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, যেখানে শীততাপ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে না। কিন্তু আর এসি (রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং) প্রকৌশলী নিয়োগ বঞ্চিত। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসি দুর্ঘটনা হচ্ছে; তারপরও কারো চিন্তা নাই যে শীততাপ পদ্ধতি পরিচালনার জন্য চার বছর মেয়াদি আর এসি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আছেন। এমন উদাহরণ বহু দেওয়া যায়। অনেক জায়গায় যেমন বিএডিসির কোল্ড স্টোরে আর এসি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নিয়োগ না দিয়ে পুরনো বিভাগ থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে কেন নতুন শাখা চালু করা হয়েছে? গত ৩০ বছরে কি একবারও নিয়োগ-বিধিমালা সংস্কার করা প্রয়োজন ছিল না? আজ পলিটেকনিকে আসন খালি থাকছে—তার প্রধান কারণ নিয়োগ বৈষম্য। অবিলম্বে সব সরকারি-বেসকারি চাকরির নিয়োগে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করা হোক, যেখানে সমস্ত শাখা স্ব স্ব মূল শাখার সঙ্গে আবেদন করার সুযোগ পাবে।
মো. ইমরান হোসেন
ডিপার্টমেন্ট :রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং,
পাশ :২০১৬, মাগুরা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, মাগুরা