বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তন করল ইউনেস্কো

বঙ্গবন্ধুর নামে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দি ফিল্ড অফ ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ পুরস্কার প্রবর্তন করছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো। গতকাল রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রথম ইউনেস্কো বাংলাদেশের কোনো সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির নামে আন্তর্জাতিক এ পুরস্কার চালু করল। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বিশ্বময় তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন সহায়ক হবে। এখন পর্যন্ত ইউনেস্কো এ ধরনের ২৩টি পুরস্কার চালু করেছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী ছয় বছর ধরে প্রতি দুই বছর পরপর ৫০ হাজার ডলার সমমানের এই পুরস্কার দেওয়া হবে। এরপর আবার জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কারটি নবায়ন করতে হবে। পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো আগামী বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সভা চলাকালে প্রদান করা হবে।

গত বছর পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আগস্ট ২০১৯ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর প্যারিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে ইউনেস্কো মহাপরিচালক বরাবর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়। ইউনেস্কোর অধিক্ষেত্র, যেমন-শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাক্স্বাধীনতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও বাংলাদেশ সরকারের ইউনেস্কোর প্রতি অঙ্গীকারের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইউনেস্কো এই পুরস্কার প্রবর্তনে সম্মতি প্রদান করে। গত ১১ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদের প্লেনারি সেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে সমাজের অনগ্রসর নারী, অভিবাসী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাঁচ সদস্যের জুরি কে পুরস্কার পাবে তা নির্ধারণ করবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ সভায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন ‘শতবার্ষিকী কর্মসূচি তালিকা’য় অন্তর্ভুক্ত করে সংস্থাটি। এর আগে, ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে। ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার মাধ্যমেও ইউনেস্কো বাংলাদেশকে সম্মানিত করে। এছাড়া ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এবং সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে এবং বাউল গান, জামদানি, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও শীতল পাটিকে বিশ্ব অপরিমেয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে সুপরিচিত করেছে।

স্বাগত জানিয়েছে জেপি

ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম। গতকাল এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে ইউনেস্কোর বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন বাঙালি জাতির জন্য এক বিরাট সুখবর। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে এই স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।