বাইডেন হবেন অবৈধ প্রেসিডেন্ট :ট্রাম্প

বাইডেনকে আজ বেছে নেবে ইলেকটোরাল কলেজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট কমলা হ্যারিসকে বেছে নেবে ইলেকটোরাল কলেজ। বিভিন্ন রাজ্যের স্টেটহাউজে বৈঠকে বাইডেনকে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পছন্দ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১৪ ডিসেম্বর। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, বাইডেন হবেন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ হয়েছে, যেখানে চার জনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং এক জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর সিএনএন ও ইউএসএ টুডের

১৪ ডিসেম্বর ৫৩৮ ইলেকটর বৈঠকে মিলিতি হবেন। বৈঠকের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করা নেই। পপুলার ভোটে যে প্রার্থী জিতেছেন, তাকে ভোট দেবেন ইলেকটররা। ধরা যাক, ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পপুলার ভোটে জিতেছেন। সেখানে রিপাবলিকানরা ইলেকটোরাল কলেজ বৈঠকে মিলিত হবেন এবং ট্রাম্পকে ভোট দেবেন ইলেকটররা। ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সব রাজ্যের ইলেকটররা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য নন। তারা পছন্দমতো কাউকে ভোট দিতে পারেন। ৩২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় নির্দিষ্ট প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাধ্য ইলেকটররা। যিনি পপুলার ভোটে জিতবেন, তাকেই ভোট দিতে হবে তাদের। বেশির ভাগ রাজ্যেই নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট না দিলে ইলেকটরদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির বিধান নেই। মাত্র পাঁচটি রাজ্যে শাস্তির আইন রয়েছে। এর মধ্যে কোনো রাজ্যে জেল এবং কোনো রাজ্যে জরিমানার বিধান রয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবারের ভোটের ফলাফল কংগ্রেস ও ন্যাশনাল আর্কাইভে পাঠানো হবে। ৬ জানুয়ারি দুপুর ১টায় কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন বসবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

‘বাইডেন অবৈধ প্রেসিডেন্ট হবেন’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। আমি বরং বিক্ষোভকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে আমি উদ্বিগ্ন যে, যুক্তরাষ্ট্র একজন অবৈধ প্রেসিডেন্ট পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

ট্রাম্পের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ‘স্টপ দ্য স্টিল’ শিরোনামে স্থানীয় সময় শনিবার দেশ জুড়ে প্রতিবাদ র্যালি ও প্রার্থনা কর্মসূচির ডাক দেন ট্রাম্প সমর্থকেরা। সুপ্রিম কোর্টের সামনেও ট্রাম্পের অনেক সমর্থক জড়ো হন। ওয়াশিংটনে সুপ্রিম কোর্ট ও ফ্রিডম প্লাজার সামনে তারা সমাবেশের আয়োজন করেন। এদের সমাবেশের পাশেই আরেকটি সমাবেশ করেন ট্রাম্পবিরোধীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মৃদু সংঘর্ষ হয়েছে। মেয়রের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে ছয় জন আটক হয়েছেন পুলিশের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে, ১০ জন সাধারণ হামলা চালানো, চার জন দাঙ্গা বাধানো, দুই জন পুলিশ লাইন অতিক্রম এবং এক জন আটক হয়েছেন অবৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখার অভিযোগে। ট্রাম্প সমর্থক প্রাউড বয়েজ ও মিলিশিয়ারা ‘জিওপিকে ধ্বংস করুন’ স্লোগানও দেন। মিলিশিয়াদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র ছিল। পালটা বিক্ষোভ করেন ট্রাম্পবিরোধী ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভে উভয় পক্ষের চার জনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং এক জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা প্রেসিডেন্টকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন। লাক উইলসন নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা হাল ছাড়ব না। আমি বিশ্বাস করি, আমেরিকার জনগণের সঙ্গে একটা বড় অন্যায় হচ্ছে।’ অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিতর্কিত টুইটগুলোর লাইক, কমেন্ট ও রিটুইট অপশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তার টুইটগুলোর লিংকও শেয়ার করা যাচ্ছিল না।