ভাস্কর্যবিরোধীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি ১৪ দলের

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতারা ভাস্কর্যবিরোধীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের ওপর আঘাত মানে জাতির ওপর আঘাত। এটা জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই জাতিকে আবারও এই উগ্র মৌলবাদী অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য দল-মত-ধর্মনির্বিশেষে সবার একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস স্মরণে এক আলোচনাসভায় নেতারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরকারী রাষ্ট্রদ্রোহী উগ্র গোষ্ঠীরা সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে যে অন্যায় করেছে, তার প্রতিকার হিসেবে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে সাজা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি। তিনি বলেন, যারা সেদিন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, সরাসরি গণহত্যায় লিপ্ত ছিল, তাদের রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এইচ এম এরশাদের ধারাবাহিকতায় পরে খালেদা জিয়াও তাদের নিয়ে জোট গঠন এবং মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়ে সেই কাজগুলো করেছেন।   

আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে আবারও নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাত হেনে যারা বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিসত্তার ওপর আঘাত হেনেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান আমির হোসেন আমু। আজ সকাল ৯টায় শহিদ বুদ্ধিজীবী করবস্থানে ১৪ দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর যতগুলো স্বপ্ন ছিল, যেটা তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার প্রতিটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আজকে যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হচ্ছে, যখন ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যখন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, তখন তারা আমাদের শর্ত দিচ্ছে। সেই শর্তের ভিত্তিতে আলোচনা হতে হবে। এটা অন্তত গণতান্ত্রিক দলের কর্মী হিসেবে, ১৪ দলের একজন কর্মী হিসেবে এই সরকারের সঙ্গে আমাদের যুক্ততা আছে, তাদের আমরা যেভাবে চিনেছি, তাতে আমাদের কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না।’

‘সাপের মুখে চুমু দিলে পরে সাপ ছোবল মারে, এটা খুব সাধারণ কথা। সাপ ছোবল মারা ভোলে না। জামায়াত পেছন থেকে সংগঠিত হচ্ছে। সুতরাং জামায়াত এখানে রয়েছে। এখানে হেফাজতকে যদি আমরা মনে করি শুধুই একটা অরাজনৈতিক সংগঠন, তাহলে ভুল করব’ বলেও সতর্ক করেন মেনন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে ফেলার হুংকার ছেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই চিহ্নিত রাজনৈতিক অপশক্তিরা ক্ষমার অযোগ্য। তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দিলে আবার আমাদের বিপদেই পড়তে হবে। তারা আবার পেছন থেকে ছোবল মেরেছে।’ তিনি বলেন, তাই হঠাত্ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি প্রদান করা, এটা সুগভীর চক্রান্তের অংশ। এই চক্রান্তের পেছনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকার পদ্ধতি এগিয়ে চলেছে, সেই সরকারকে চক্রান্তের মধ্য দিয়ে উত্খাত করার একটা সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে দাবি করেন ইনু।

জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘একাত্তরে জীবন দিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন, তাদের আশা ছিল অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। মানুষ তার মৌলিক অধিকার পাবে। আমরা যদি এ রকম বাংলাদেশ কায়েম করতে পারি, তাহলে শহিদদের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা করা হবে। বঙ্গবন্ধু সেই চেষ্টাই করেছিলেন।’

আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের সঞ্চালনায় এই আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীসহ কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।