হেফাজত মহাসচিব আল্লামা কাসেমীর ইন্তেকাল

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাইখুল হাদিস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি গতকাল রবিবার দুপুর ১টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই বরেণ্য আলেমের বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ২ কন্যাসহ অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত-অনুরাগী, সমর্থক-অনুসারী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ সোমবার সকাল ৯টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নূর হোসাইন কাসেমীর ছেলে মাওলানা জাবের হোসেন কাসেমী জানিয়েছেন, গত ১ ডিসেম্বর শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কারণে আল্লামা কাসেমীকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাত্ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাত্ক্ষণিক তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে নূর হোসাইন কাসেমী সংগঠনটির ঢাকা মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.)-এর মৃত্যুর পর গত ১৫ নভেম্বর নতুন কমিটিতে আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির ও নূর হোসাইন কাসেমীকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। তিনি প্রায় ৪৫টি মাদ্রাসা পরিচালনার কাজে যুক্ত ছিলেন। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক নেতা আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ২০ দলীয় জোটের পক্ষে সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। চরমোনাইর পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমও গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নূর হোসাইন কাসেমীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী গতকাল এক শোকবার্তায় বলেন, ইসলামি আন্দোলনের ময়দানে তিনি ছিলেন একজন বীর সিপাহসালার। তার ইন্তেকালে ইসলামি অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়।