কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে পিতা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক যুবক। তাকে নিজের পিতা প্রমাণের জন্য ডিএনএ টেস্টের দাবিও করেছেন মুহাম্মদ ইসহাক (২৬) নামের ঐ যুবক। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত বদির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।
জানা গেছে, রবিবার টেকনাফ সহকারী জজ জিয়াউল হকের আদালতে আবেদনটি করেন ইসহাক (মামলা নম্বর-১৪৯)। কিন্তু সোমবার বিষয়টি প্রকাশ পেলে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ‘টক অব কক্সবাজারে’ পরিণত হয়েছে বিষয়টি। বদির চেহারার সঙ্গে আদালতে আসা যুবকের চেহারা মিলে যাওয়ায় চায়ের আড্ডায়, আলোচনা-সমালোচনায় এ বিষয়টি বেশ জমে উঠেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগ আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। আগামী সাত কর্ম দিবসে সমনের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে অভিযোগে ঐ যুবক বলেন, ১৯৯২ সালে ৫ এপ্রিল তার মা সুফিয়া খাতুনকে কালেমা পড়ে বিয়ে করেন আবদুর রহমান বদি। বিয়ে পড়ান বদিদের পারিবারিক আবাসিক হোটেল নিরিবিলিতে ঐ সময়ে কর্মরত মৌলবি আবদু সালাম। সাক্ষী ছিলেন তখনকার হোটেলের দারোয়ান এখলাছ। ইসহাক তার দাবির সত্যতা যাচাইয়ে আদালতের কাছে ডিএনএ টেস্ট করার আবেদন করেছেন। ইসহাক জানান, ছোটবেলা থেকে তার মায়ের কাছে শুনে আসছেন তার পিতা আবদুর রহমান বদি। কিন্তু কখনো তিনি পিতার স্নেহ-ভালোবাসার স্বাদ পাননি। সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে মায়ের হাত ধরে তিনি অসংখ্য বার বদির কাছে যান। কিন্তু রাজনৈতিক শত্রু ও সামাজিক অবস্থানসহ নানা সমীকরণ দেখিয়ে তাকে এবং তার মাকে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। তাই তারা এতদিন চুপ ছিলেন। অনেক বছর ধরে তারা মা-ছেলে অন্যের কাছে আশ্রিত আছেন। অভাব অনটনে চলছে জীবনসংসার।
ইসহাকের দাবি, বিষয়টি নিয়ে মা-ছেলে বদির ছোট বোন শামসুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা ঘরোয়াভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু বদি কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
ইসহাক জানান, সম্প্রতি দুদকের মামলায় হাজিরা দিয়ে টেকনাফে ফুলের সংবর্ধনা গ্রহণকালে বদি ছেলে শাওন ও মেয়ে ছাড়া আর কোনো সন্তান নেই দাবি করে বক্তব্য রাখেন। এর পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর চুপ থাকব না।
এ বিষয়ে জানতে আবদুর রহমানের বদির ব্যবহূত দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। পরে পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠালেও কোনো সাড়া দেননি তিনি। মামলায় বদির পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দীন।