আটোয়ারীতে ধর্ষণের মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ আত্মহত্যার চেষ্টা ভুক্তভোগীর

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর উলটো তার পরিবারকে সহ্য করতে হচ্ছে নানা ধরনের হুমকিধমকি। ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতেও দেওয়া হচ্ছে চাপ। ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নিয়ে সমঝোতার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নেতাদের মাধ্যমে তাদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে ধর্ষণ ঘটনার প্রধান আসামি পঞ্চগড় আদালতের আইনজীবী এইচ এম হাবিবুর রহমান হাবিবের লোকজন। এসব চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে ঐ স্কুলছাত্রীকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। মেয়ের আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মেয়েটির বাবা গতকাল আরো একটি মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে হাবিবুর রহমান হাবিব ঐ স্কুলছাত্রীকে আটোয়ারী উপজেলা সদরের কালিকাপুর এলাকার এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঐ স্কুলছাত্রীর চিত্কারে স্থানীয়রা এসে আপত্তিকর অবস্থায় ঐ আইনজীবীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঐদিনই স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযুক্ত আইনজীবীকে প্রধান আসামি এবং ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে সুশীল চন্দ্র ও তার স্ত্রী শুকনিকে আসামি করে আটোয়ারী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ঐ আইনজীবীকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। ঐ ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এবং পুলিশ এজাহারভুক্ত তিন জনের নামে গত নভেম্বরে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলা হওয়ার পর থেকেই আইনজীবী হাবিবের পক্ষের লোকজন ও বিভিন্ন প্রভাবশালীর মাধ্যমে সমঝোতার চাপ দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রতন বিলাস বর্মন ও সনাতন ধম্বাবলম্বী নেতা মনোজ রায় হিরু ৭ লাখ টাকায় মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এমনকি সমঝোতার কাগজপত্রও তৈরি করে। এই খবর শুনে রবিবার সন্ধ্যায় ঐ স্কুলছাত্রী বাড়িতে থাকা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ঐ স্কুলছাত্রীর বাবা গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আইনজীবী এইচ এম হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে সমঝোতার প্রস্তাবদাতা আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রতন বিলাস বর্মন ও মনোজ রায় হিরুর নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. হুমায়ুন কবির জানান, ঐ স্কুলছাত্রী কীটনাশক পান করেছিল। হাসপাতালের আনার পর তাকে ওয়াশ করা হয়েছে। এখন তার অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিত্সা চলছে। তবে ৭২ ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাবে না।

মামলাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। আটোয়ারী থানার ওসি ইজার উদ্দীন জানান, ঐ স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। আইনজীবী হাবিবসহ তিন জনকে অভিযুক্ত করে নভেম্বর মাসে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঐ আইনজীবী জেলহাজতে রয়েছেন। আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে গতকাল দুই জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।