কল্যাণপুরের ১০ জঙ্গির অধিকতর অভিযোগ গঠন ২৬ জানুয়ারি

রাজধানীর কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে অধিকতর অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত। গতকাল সোমবার মামলাটি অধিকতর অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার আসামি শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে রাজশাহী কারাগারে থাকায় পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করতে পারেনি। এ জন্য ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কে ‘জাহাজ বিল্ডিংয়ে’ রাতভর অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিন সকালে এক ঘণ্টার মূল অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। ঐ ঘটনায় আহত হন রিগ্যান নামে আরো একজন। তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য বলে জানায় পুলিশ। অভিযানের দুই দিন পর মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. শাহ জালাল আলম সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়।

গত ১১ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ১০ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন—রাকিবুল হাসান রিগ্যান (২১), সালাহ উদ্দিন কামরান (৩০), আব্দুর রউফ প্রধান (৬৩), আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা (২০), শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ওরফে সোলায়মান (২৫), মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে মামুন (৩০), আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট (২৮), মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর (৬০), আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে নাসরুল্লা হক ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে কুলমেন (৩৩) ও হাদিসুর রহমান সাগর (৪০)। এদের মধ্যে আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট পলাতক রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা (হলি আর্টিজান) মামলার আট আসামির মধ্যে সাত জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে হতাহতের ঘটনায় করা মামলার ছয় আসামি রয়েছে। তারা হলো—আসলাম হোসেন, মো. হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. আব্দুস সবুর খান, শরিফুল ইসলাম খালেক ও মামুনুর রশীদ রিপন।