পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, দূতাবাস ঘেরাও

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার দেশজুড়ে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নানা সংগঠনের বিক্ষোভ, মানববন্ধন, ছবি-প্রদর্শনী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতি স্মরণ করেছে একাত্তরে অকালে প্রাণ হারানো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।   

ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে সংগঠন একাত্তরের গণহত্যা ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে  দূতাবাস ঘেরাও করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছে।  

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একই দাবিতে সমাবেশ করে এই সংগঠন। পরে দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা করলে শাহবাগে পুলিশ তাদের আটকে দিয়ে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলকে পাকিস্তান দূতাবাসে নিয়ে যায়।   

একইভাবে দেশজুড়ে বিভিন্ন সংগঠন পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।   

এছাড়া বাংলাদেশ সোশ্যাল এক্টিভিস্ট ফোরাম প্রেস ক্লাবে সভা ও ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতি সংসদ বাইসাইকেল র‍্যালির আয়োজন করেছে।  এসময় তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড ছিল।    

এদিকে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক লীগের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। সেখান নানা পেশাজীবীর মানুষ অংশ নেয়। এছাড়া মিছিলে প্রায় এক হাজার লোকের মত অংশ নেয় সেখানে ভাষণ দেন স্থানীয় আলেম/ উলেমাগন। সন্ধ্যায় বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। 

খুলনায় বাংলাদেশ সোশ্যাল এক্টিভিস্ট ফোরামের স্বেচ্ছাসেবকরা এক র‍্যালির আয়োজন করেছে।  সেখানে প্রায় ১০০ জনের মত লোক অংশ নেয়।  একই ব্যানারে  রাজশাহী, বেনাপোল, সাতক্ষীরা এবং পটুয়াখালিতে  র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।  

এদিকে সিলেটে স্বাধীনতা ফোরামের আয়োজনে র‍্যালি এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সেখানে অংশগ্রহণকারীরা 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে পাক ষড়যন্ত্রকারীরা তার ভাস্কর্য ক্ষতি করতে সক্রিয়' লেখা ব্যানার নিয়ে র‍্যালি করে।  

এছাড়া সিলেটে লিয়েন অব হিউম্যান রাইট ফাউন্ডেশন  (এলএইচআরএফ )  মানবন্ধনের আয়োজন করে।  তাদের দাবি পাক সেনাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।  

বগুড়ায় প্রজন্ম ৭১-এর আয়োজনে মানববন্ধন  ও মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে।  বুদ্ধিজীবীদের হত্যার নিন্দা জানায় তারা।   

রাজশাহির জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ (জেপিএবি) সংগঠন মানববন্ধন ও সাইকেল র‍্যালির আয়োজন করে।   তারা ১৯৭১ সালে গণহত্যা এবং ১৪ ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় জড়িত পাক সেনাদের বিচারের দাবি জানায়।  

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি হলে সপ্তাহব্যাপী সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। 

ইত্তেফাক/এসআর