আ জ ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশবাসী তাকে ভোট দিয়ে নিজেদের শাসন করার, তাদের পক্ষে তথা তদানিন্তন বাংলাদেশের পক্ষে বৈধভাবে কথা বলার একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে ক্ষমতা অর্পণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গৃহীত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে’ তা এভাবে বিধৃত হয়েছে— ‘এবং যেহেতু এরূপ প্রতারণাপূর্ণ ব্যবহারের বাস্তব অবস্থা ও পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের ন্যায়সঙ্গত দাবি পূরণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় স্বাধীনতার ঘোষণা দান করেন এবং বাংলাদেশের মর্যাদা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।’
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু যেসব দিকনির্দেশনা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, সে অনুসারে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী চলে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় মুক্তিকামী জনগণ সর্বশক্তি নিয়ে আক্রমণকারী সশস্ত্র পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ যুদ্ধে জীবন দিয়েছে ৩০ লাখ মানুষ। দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছিল ১ কোটি মানুষ। নানাভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত, ক্ষতিগ্রস্ত, লুণ্ঠিত, অত্যাচারিত, মা-বোনের ইজ্জত-সম্ভ্রম, সব হারিয়ে লড়াই চালিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় পতাকা উড়িয়ে মাতৃভূমি স্বাধীন করেছে। বিশ্বের বুকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বাংলাদেশের বিজয় তথা রাষ্ট্রের অভ্যুদয় শুধু বাংলার নিপীড়িত, অত্যাচারিত কিংবা শোষিত জনগোষ্ঠীর বিজয় নয়, এ বিজয় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের এবং তাদের বেঁচে থাকার প্রেরণা। বলা যায়, নির্যাতিত মানুষের হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ও প্রেরণার নাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা-বাংলাদেশের অভ্যুদয়। আর এই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের মহানায়ক হচ্ছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
০২.
পৃথিবীর কোনো মহত্তম অর্জনের স্থায়ী ভিত্তি বিনা বাধায় বা বিনা লড়াইয়ে অর্জিত হয়নি। নানা কাঠখড় পুড়িয়ে, অবিচল লক্ষ্যে স্থির থেকে ভবিষ্যতের ভিত্তি মজবুত করতে হয়। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ তার বিজয়ের যাত্রাপথ ৪৮ পূর্ণ করে ৪৯ বছরে পদার্পণ করেছে। এই সময়ে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আমাদের চলার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। দেশি ও আন্তর্জাতিক সব ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ নিজের গতিপথ নিজেই বেছে নিয়েছিল। আর এই গতিপথের একমাত্র নির্ধারক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
যদিও আজ বাংলাদেশ অনেক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুচ্ছে। যাত্রালগ্নে যারা বাংলাদেশকে বলেছিল তলাবিহীন ঝুড়ি, আজ তারাই বলে বাংলাদেশ এশিয়ার টাইগার। তবে এ কথা অস্বীকার করব না—কতগুলো ক্ষেত্রে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সফলতা বহুদূরের পথ। বিশেষত টেকসই গণতন্ত্র। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের মর্মান্তিক পটপরিবর্তন না ঘটলে নিশ্চিত গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আমাদের পদচারণা আরো শক্তিশালী হতো। এ প্রসঙ্গে আমাদের একটি কথা মনে রাখা দরকার—বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি কখনোই সাধারণ জনগণ দ্বারা বিপদগ্রস্ত হয়নি। সমরতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র আর তথাকথিত সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের ক্ষমতালিপ্সা গণতন্ত্রের পথকে কলুষিত এবং বাধাগ্রস্ত করেছে। আর প্রতিবারই সাধারণ মানুষের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ফিরেছে তার আপন গতিপথে।
তার পরও বলব, বাংলাদেশ নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়েও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সাফল্যের সঙ্গেই বিশ্ব মানচিত্রে পদচারণা করছে। এই সময়ে অনেক দিক থেকে আমাদের অগ্রগতি শুধু সন্তোষজনকই নয়, বিস্ময়করও বটে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের উত্থান সারা বিশ্বের কাছে অনুসরণীয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসে একটি নিবন্ধ লিখেছেন বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি। বিশ্বখ্যাত এই সাংবাদিকের নাম বাংলাদেশের কোনো সচেতন মানুষের কাছেই অজানা নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকালে তিনি বিবিসির দিল্লি প্রতিনিধি হিসেবে যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মার্ক টালির সেই সংবাদ ছিল অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। তখন থেকেই বাংলাদেশের ওপর তার একটি বিশেষ নজর রয়েছে। এই নিবন্ধের শুরুতেই তিনি একটি বাক্যে যা লিখেছেন তার বাংলা ভাষান্তর করলে হবে—আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় সম্ভবত ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নজরে এসেছে এ কারণে যে, দেশটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ছাইয়ের মধ্য থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পোড়ানীতি অবলম্বন করে ছাই রেখে গিয়েছিল। শুধু মার্ক টালি নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমাদের ইতিবাচক ডাটাই দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ অর্থনীতির সব সূচকই এই করোনা মহামারির সময়েও আশা দেখাচ্ছে।
০৩.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের ১৫ই ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, ’১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংগ্রামের সমাপ্তি এবং অর্থনৈতিক মুক্তিযুদ্ধের শুরু। এই যুদ্ধে এক মরণপণ সংগ্রাম আমরা শুরু করেছি। এই সংগ্রাম অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। তবে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থেকে কঠোর পরিশ্রম করি এবং সত্ পথে থাকি, তবে ইনশাআল্লাহ জয় আমাদের অনিবার্য।’ আজকের বাংলাদেশ সেই পথে এগুচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে সাফল্যগাথা রচিত হচ্ছে এক কথায় তা অবিশ্বাস্য। আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প এখন আর কারো দয়া বা অনুগ্রহের ওপর নির্ভর নয়। বিশ্ব ব্যাংকের মোড়লিপনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দৃশ্যমান পদ্মা সেতু সাক্ষ্য দিচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যার দূরদৃষ্টি, বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সাফল্যের। এই বিজয় দিবসে এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কী হতে পারে! জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে অংশগ্রহণমূলক যে উন্নয়নধারা বাংলাদেশে সূচিত হয়েছে তার সুফল বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে। আশা করা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশে হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করবে। জাতির পিতা এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন। আর তার কন্যার নিরলস পরিশ্রমে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর এই বাংলাদেশ পথ হারাবে না। বুকের তাজা রক্ত আর অসংখ্য মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর যে বিজয় হয়েছিল, আগামী দিনে তা আরো সুদৃঢ় হবে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের এই উন্নয়ন শুধু দেশের জনগণের উন্নয়ন নয়, বিশ্বের বুকে যত নিপীড়িত ও শোষিত জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে লড়াই করছে, তাদের কাছে প্রেরণারও।
এ তো গেল সম্ভাবনার কথা। তবে কথার পিঠে যেমন কথা থাকে তেমনি আলোর উলটো পিঠে অন্ধকারও থাকে। বাংলাদেশের রাজনৈতি প্রেক্ষাপটে এ সম্ভাবনা চিরকালই বহমান। ’৭৫-পরবর্তী সময়ে এ দেশে যে রাজনৈতিক ধারা তৈরি হয়েছে, গত একদশকে সেই রাজনীতি অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও থেমে নেই। বাতাসে কান পাতলে শোনা যায় পতিতদের হুঙ্কার। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যেতে হলে এসব অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে। আর এজন্য আমাদের রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক ও সংস্কৃতির দিকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, সাংস্কৃতিক মুক্তি ছাড়া সব অর্জনই বিফলে যাবে। জাতির পিতাও এ বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন। তিনি অর্থনৈতিক সংগ্রামের লড়াই শুরু করলেও একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মুক্তির কথাও ভেবেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।’
গত একদশকে বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচনা হয়েছে, তার মূল কারণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু এই উন্নয়ন একই সঙ্গে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, ‘সাংস্কৃতিক মুক্তি’ ও উন্নয়ন খুবই জরুরি। এই ক্ষেত্রে সত্যিকারের উন্নয়ন না ঘটলে সমূহ বিপদ। কেননা মানুষের মধ্যে বিভাজনের রেখা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তা না হলে আজকের দিনে কেন ভাস্কর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে? কথায় কথায় ধর্মের অপব্যবহার আর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার আর কত? এসব নিয়ে ভাবতে হবে। স্বাধীনতার এত বছর পরও শিক্ষায় আমরা সমতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারিনি। অথচ দেশকে সত্যিকার অর্থে সবার করে গড়ে তুলতে আধুনিক বিজ্ঞাননির্ভর একটি মানবিক অভিন্ন শিক্ষা পদ্ধতি সময়ে দাবি। তা না হলে আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। আমাদের সমতা আনতে হবে প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতিতে, সমতা আনতে হবে নারী-পুরুষ বৈষম্যে। সর্বোপরি সমাজের সমস্ত ক্ষেত্রে সহনশীলতা, সততা ও সমতা জরুরি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ’৭১-এর পরাজিত হায়েনার কালো নখের থাবায় ’৭৫ সালে কক্ষচ্যুত হয়েছিল জাতি। তারা বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছিল পাকিস্তানের ভূতদর্শন এবং সেই লক্ষ্যে অনেকাংশে সফলও হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পারেনি। বাংলার সাধারণ মানুষ জাতির পিতার স্বপ্নের সঙ্গে কখনো বেইমানি করতে পারে না। বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু আস্থা রেখেছিলেন বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর। জীবন দিয়ে আস্থার প্রতিদান দিয়ে গেছেন। আর বাংলার সাধারণ মানুষও মনেপ্রাণে জাতির পিতাকে ধারণ করে প্রতিটি গণজাগরণে এগিয়ে এসেছেন। মুজিব বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রিয়। বারবার চেষ্টা করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে এ নামটি মুছে দেওয়ার। কিন্তু সম্ভব হয়নি। কারণ, বাংলাদেশের আরেক নাম বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের আত্মা শেখ মুজিব। তার চিন্তাচেতনা বা আদর্শ থেকে কক্ষচ্যুত হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ আমাদের নেই। নিজেদের স্বার্থেই বারবার তার কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।
তাই বিজয় দিবসে আমাদের শপথ স্পষ্ট। সব বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে এগুতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের রাজনৈতি, অর্থনৈতিক ও সংস্কৃতিসহ সমস্ত ক্ষেত্রে স্লোগান হোক ‘জয় বাংলা’। কেননা ‘জয় বাংলা’র মধ্যেই নিহিত আছে সত্যিকারের মুক্তির শপথ। বঙ্গবন্ধুও তাই মনে করতেন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা শিল্প ও বণিক সমিতির সংবর্ধনা সভায় বলেছিলেন—‘জয় বাংলা কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটা বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের প্রতীক।’
আশার কথা, গত একদশকে ‘জয় বাংলা’ ফিরছে বাংলার ঘরে ঘরে। আর সমরতন্ত্র ও ধর্মান্ধতাকে পেছনে ফেলে আমরা দাঁড়িয়ে আছি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের সামনে। আশা করব—গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে যে আকাঙ্ক্ষায় তাড়িত হয়ে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম রচনা করেছিলেন, সে লক্ষ্যে আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দৃঢ়তা ও সহনশীলতার সঙ্গে এগিয়ে যাব।
জয় বাংলা।
লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন