স্মারক

শেকড় থেকে শিখরে

আবদুল্ল­াহ আল মোহন

 

বাঙালির আছে আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস। যার শেকড়ে প্রোথিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন। একসময় সেই লড়াই সফল হয়, আসে ১৯৪৭। এরপর ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আর তারপরেই সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের বছর ৭১। দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা শিল্পকর্ম, স্মৃতি-ভাস্কর্য। ইতিহাসের বাঁকগুলো তুলে ধরা তেমনই এক অনন্য স্মৃতিস্মারক ‘শেকড় থেকে শিখরে’। পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী ঘাটের অদূরে নাটিয়াবাড়িতে নগরবাড়ী-পাবনা মহাসড়ক সংলগ্ন ধোবাখোলা করোনেশন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকের পাশে নির্মিত।

১০ ফুট উচ্চতার কংক্রিটের স্তম্ভের ওপর বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য ১৮ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট। এটি স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি। বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যের দুই পাশে রয়েছে তিনটি করে অতিরিক্ত স্তম্ভ, যেখানে সিমেন্ট কেটে অঙ্কিত হয়েছে ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির উত্থান-পতন এবং উন্নয়নের ধারা। মূল ভাস্কর্যের একপাশে ২৬টি কলামের সীমানা বেষ্টনী রয়েছে, যার প্রত্যেকটি কলামে টাইলসে এনগ্রেভিং করা হয়েছে বাংলার ইতিহাস। যেখানে সংক্ষিপ্ত আকারে লিপিবদ্ধ রয়েছে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ৭৫-এ জাতির জনকের পরিবারের ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত সচিত্র ইতিহাস।

নাটিয়াবাড়ি হাই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র পাবনা-২ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং আরেক প্রাক্তন ছাত্র তরুণ শিল্পী বিপ্ল­ব দত্তকে নকশা তৈরি করতে বলেন। স্বপ্নবান শিল্পী বিপ্ল­ব দত্ত প্রায় দেড় বছর নিরলস পরিশ্রমের পর নির্মাণ করেন বহুমাত্রিক নান্দনিক এই ভাস্কর্য।