মহান মুক্তিযুদ্ধে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপন করে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পাওয়া সাতজনের একজন মোহাম্মদ রুহুল আমিন, নোয়াখালী জেলার কৃতী সন্তান। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রণতরী ‘পলাশ’কে রক্ষার চেষ্টাকালে শহিদ হন। ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ এলাকায় পড়াশোনা শেষ করে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন তত্কালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধে যান। স্থলযুদ্ধের বিভিন্ন অভিযানেও অংশ নিয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যদের সংগঠিত করে গঠন করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। মোহাম্মদ রুহুল আমিন দায়িত্ব পান গানবোট পলাশের প্রধান ইঞ্জিনরুমে আর্টিফিশার পদে। স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী দ্বারপ্রান্তে। এই দীর্ঘ সময়েও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)-এ অবহেলিত বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন! নোবিপ্রবির একাডেমিক কার্যক্রমের ১৫ বছর কেটে গেলেও এই বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল, ভবন, চত্বর কিংবা স্থাপন করা হয়নি কোনো স্মৃতি-স্মারক। পালন করা হয় না এই বীরশ্রেষ্ঠের জন্ম ও মৃত্যু দিবসও, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনের নামে কোনো ভবনের নামকরণ হোক। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বারবার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আর কতদিন নিজ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অবহেলিত থাকবেন বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন?
মো. ফাহাদ হোসেন
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়