স্বাধীনতা পুরস্কার চায় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল

  সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখ যুদ্ধের পাশাপাশি ফুটবল পায়ে যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, সেই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার চায়। যুদ্ধ চলাকালীন যারা ভারতের মাটিতে ফুটবল খেলে দেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন তারা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য অনুরোধ করেছেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা চাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকার আমাদেরকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিক।’

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য দেশের ফুটবলাররা ভারতের মাটিতে গিয়ে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে তহবিল সংগ্রহ করেছিল।

আজ বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বিকালে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু তার স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বললেন, ‘আমি পশ্চিম দিনাজপুরের বালুর ঘাটে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম। প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম আমাকে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দেন ফুটবল খেলে তহবিল সংগ্রহ করতে হবে। আমি বললাম সম্মুখ যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম। এরপর ভারতে চলে গেলাম। সেখানে ৩০ জন ফুটবলার চূড়ান্ত হলো।’

ভারতের বিভিন্ন স্থানে ১৪টি ম্যাচ খেলে ৫ লাখ রুপি সংগ্রহ করে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ‘আমরা ২৫ জুন নদীয়া কৃষ্ণনগরের মাঠে নদীয়া প্রথম ম্যাচ। আমি ছিলাম স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক। এই ম্যাচের আগের দিন বলেছি ম্যাচে ভারত এবং বাংলাদেশের পতাকা উড়তে হবে। তারা না করে দিল। আমি বললাম খেলব না, চলে যাব। তখন নাদীয়ার জেলা প্রশাসক ডিকে দাস মিটিং ডেকে পতাকা উড়ানোর ব্যবস্থা করলেন। নদীয়া একাদশের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করি। তখন ১৪ ম্যাচে ৫ লাখ রুপি সংগ্রহ করে মুক্তিযুদ্ধে দান করেছিলাম।’

মোহামেডানে ৮ বার অধিনায়ক ছিলেন এই ডিফেন্ডার। এক সময়ের সাড়া জাগানো ফুটবলার জাকারিয়া পিন্টুর বর্তমান বয়স ৭৯। স্বাধীনতার অনেক কথাই তার মনে আছে। নিজে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু তার দলের সবাই না পাওয়ায় আফসোস আছে। মোহামেডান ক্লাব টেন্টে বসে আফসোসের কথাই শোনালেন। বললেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তীতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে স্বাধীনতা পদক দিয়ে সম্মানিত করার অনুরোধ করছি।’ জাকারিয়া পিন্টু বললেন, ‘পৃথিবীর আর কোথাও যুদ্ধের জন্য ফুটবল দল গঠন হয়নি। আমি একমাত্র যুদ্ধজয়ী দেশের ফুটবল অধিনায়ক। নতুন কোনো অধিনায়ক হতে হলে যুদ্ধ হতে হবে, ফুটবল দল গঠন করতে হবে তখন অধিনায়ক হবেন একজন। এই সম্মান পৃথিবীতে শুধু আমি-ই পেয়েছি।’