ভাস্কর্য নিয়ে আন্দোলন না করার আশ্বাস দিয়েছেন আলেমরা --------- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে আর আন্দোলন না করার আশ্বাস দিয়েছেন আলেমরা। আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হবে। গত সোমবার রাতে দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধানমন্ডিতে আমার বাসভবনে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সভাপতি ও আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে দেশের ১২ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম একসঙ্গে বসি এবং মতবিনিময় করি। সেই সভায় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, ওবায়দুর রহমান নদভী, মাওলানা মো. নুরুল ইসলামসহ ১২ জন আলেম উপস্থিত ছিলেন। আমাদের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী (ফরিদুল হক খান), ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আমাদের অতিরিক্ত সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পরিবর্তে মুজিব মিনার করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ওখানে একটি মুজিব মিনার তৈরি করার জন্য, কুতুব মিনারের আদলে। তারপর তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করতে চেয়েছেন। সবকিছুই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘৫ ডিসেম্বর সারা দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা মাহমুদুল হাসানের ডাকে এক হয়েছিলেন। সেখানে তারা অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি পত্র তারা পাঠিয়েছিলেন, সেই পত্রের কপিও তারা আমাদের দিয়েছেন। সেটার বিষয়ে আলাপ-আলোচনার জন্যই আমাদের ওখানে গিয়েছিলেন। একটা ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যতটুকু আলাপ করেছি, আমরা মনে করি একটি সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই আবেদন রেখেছেন, কেউ যাতে রাস্তায় নেমে এসে ভাঙচুর না করে। কেউ যেন এসে কোনো ধরনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, এ ব্যাপারে তারা আমাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ঐকমত্যে আসছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে নানা ধরনের উত্তেজনা ছড়ানোর যে প্রয়াস চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তারাও কথা বলেছেন। তারা বলেছেন এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে। কোথাও যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন কেউ না করেন, সেই আহ্বানও তারা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘পাঁচটি প্রস্তাবনা তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই শেষ কতে চান। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আশা করি আলোচনার মাধ্যমেই ফয়সালা করতে পারব।’

এর মানে, তাদের দাবিই শেষ পর্যন্ত মানতে হচ্ছে—এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আমি বলিনি। বলেছি আলোচনার মাধ্যমে আমরা শেষ করব।’

সরকার কি নতজানু নীতি নিয়েছে?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না। সরকার কখনো নতজানু নীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। আমরা কারো ধর্মীয় সেন্টিমেন্টেও আঘাত করতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে চাই।’

যারা জাতির পিতার ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিতে বলেছে, যারা ভেঙেছে তাদের সঙ্গে আলোচনা সরকারের নতজানু নীতি কি না—এমন প্রশ্নে স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো নতজানুর রাজনীতি করে না। আমাদের সরকার সবকিছু স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়ে করে। আমরা সংবিধানের বাইরে কোনো কিছুই করব না। তার মানে এই নয় যে আমরা কোনো ধর্মকে অবজ্ঞা করব।’