যথাযোগ্য মর্যাদায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বিজয় দিবসের ব্যানারে দেওয়া হয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে নির্মিত শহীদ মিনারের ছবি। যা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। তবে অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের কথা স্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর আগে ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে বিজয় দিবসের সূচনালগ্নে বিউগল বাজিয় দিনটিকে স্বাগত জানানো হয়।
পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সদস্যদের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘স্মরণ’ সংলগ্ন চত্বরের ‘স্মরণ চত্বর’ নামকরণ ও নামফলক উন্মোচন এবং চবি আলাওল হল চত্বরে অবস্থিত প্রথম শহীদ মিনারের সংস্কারপূর্বক উদ্বোধন করেন।
আরো পড়ুন: ইউপি চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল
স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, যে বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশ হত না, সেই জাতির পিতার ভাস্কর্যে আঘাত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাতের সামিল। এই সকল স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। এসময় সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, প্রক্টর-সহকারী প্রক্টরবৃন্দ ও ডিনবৃন্দসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ব্যানারে শহীদ মিনারের ছবি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, শহীদ মিনার বাংলাদেশের চেতনার অংশ হলেও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তার ছবি বেমানান। কেননা সেটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
এই ব্যানারটি তৈরির দায়িত্বে ছিলেন উপাচার্য দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, এর আগেও শহীদ মিনারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আগের ধারাবাহিকতায় এই ব্যানারটি তৈরি করেছি। বিশেষ করে দেশের অনেক জায়গাতেই স্মৃতিসৌধ না থাকায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয় শহীদ মিনারেই। তবে আমরা এটি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি, আগামীতে আর এমনটা হবে না আশা করি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আতিকুর রহমান বলেন, ব্যানার তৈরির সময় আমাদেরকে দেখানো হয়নি, ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুলটা হয়ে গেছে।
ইত্তেফাক/এএএম