শীতের হাওয়া লাগছে গায়ে আর মনে পড়ছে বালকবেলার স্মৃতি। মফস্বল ও গ্রামের ছবি। মাঠে মাঠে পাকা ধানের সোনা বরণ রূপ। পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পাকা ধান কাটছে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। কাস্তেয় শান দেওয়ার লাইন কামারশালায়।
বাড়ির দোরে শিউলির হাঁক মধুর গলায়—কার বাড়িতে কতগুলো খেজুর গাছ, লিখে নিচ্ছে খাতায়। আমাদের বাড়ির শিউলির নাম আরব আলী শিউলি। আমাদের আরব আলী কাক্কু। বাড়ি ছিল তাঁর নামাজপুর গ্রামে। পিরোজপুর লাগোয়া গ্রাম। গোটা মফস্বল ও গ্রামেরই শিউলি তিনি। আমরা ছোটরা প্রথম গাছ চাঁছার দিন তাঁর সঙ্গে ঘুরতাম খেজুরের মোচা নেওয়ার জন্য। প্রথম রস—সে কী মধুর! সকালবেলায় নামিয়ে কাঁচা খাওয়া হতো কিছুটা। বাকি অংশ উনুনে জ্বাল দিয়ে পাটালি, গুড় তৈরি হতো। মূলত আমার আনিস মামা এটা করতেন। নরম সুস্বাদু পাটালি দিয়ে আমরা ভাত খেতাম। ভাঁড়ে গুড় তৈরি করে রাখতেন মা। সেই সময় আমাদের বাড়িতে বড় বোন বকুল আপার বান্ধবী মালেকা আপা, রুবী আপা, রেণু আপা, রুনু আপা, মনু আপা এবং আরো অনেকে আসতেন খেজুর রসের পায়েস খেতে। আবার কেউবা মুখে দিতেন গুড়।
বিকেলের ওলা রস দিয়ে কুলের আচার তৈরি হতো। পান্তা দিয়ে খেলে তার কী দারুণ তৃপ্তি এনে দিত শীতের মধু খেজুরের রস আর তার পায়েস, গুড়। সেসব এখন স্মৃতি। নতুন ধানের চালের গুঁড়ো দিয়ে কত ধরনের পিঠা খাওয়া। কিন্তু আজ? কুয়াশার চাদরে মোড়া শীত এলেই মনে হয় খেজুর রস খাওয়ার কথা।
শহরে এ রস সত্যিই বিরল। গ্রামাঞ্চলেও আজকাল সহজে দেখা মেলে না।
খেজুরের রস খুব উপকারী। প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ—আছে আয়রনও। গ্লুকোজের মাত্রাও বেশি। একে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক বলা যায়। যাঁরা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন, কাজকর্মে জোর পান না, তাঁদের জন্য খেজুরের রস দারুণ উপকারী। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের খেজুর রস না খাওয়াই ভালো।
লিয়াকত হোসেন খোকন