সিপিজের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে
রয়টার্স
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী এ বছর রেকর্ডসংখ্যক সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে করোনা ভাইরাস মহামারি নিয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে আনতে গিয়ে বা গণঅসন্তোষের খবর প্রকাশ করার কারণে সাংবাদিকরা সরকারের বিরাগভাজন হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। নিউইয়র্কভিত্তিক এ সংগঠনটি নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করে আসছে।
সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত এ বছরই সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক জেলে গেছে বলে জানিয়েছে সিপিজে। চীন, তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিকের জেল হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ২৭৪ জন সাংবাদিককে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে, গত বছর যা ছিল ২৫০ জন। বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে খবর প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে এ বছর গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠান হয়েছে। এ বছর বিশ্ব জুড়ে ৩৪ জন সাংবাদিককে ‘মিথ্যা খবর’ প্রকাশের অভিযোগেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩১। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর কারাগারে যাওয়া সাংবাদিকদের দুই-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ‘অপরাধে’ তাদের অভিযুক্ত করা হয় এবং জেলে ঢোকানো হয়। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে অনেক দেশের সরকার সাংবাদিকদের কারাগারে ঢুকিয়ে মহামারি নিয়ে খবর প্রকাশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। অন্তত দুই জন সাংবাদিক পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন বলে সিপিজের প্রতিবেদনে জানানো হয়। সিপিজের নির্বাহী পরিচালক জোয়েল সিমন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি বৈশ্বিক মহামারি চলাকালে রেকর্ডসংখ্যায় সাংবাদিককে জেলে পোরার ঘটনা খুবই দুঃখজনক এবং ভয়াবহ আতঙ্কের বিষয়।’