নিটল-নিলয় গ্রুপের বিশ্বমানের রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ‘টারজান পেপার’ এর রপ্তানি শুরু হবে চলতি মাসেই। প্রাথমিকভাবে চায়না আর আফ্রিকাতে এই কাগজ রপ্তানি হলেও বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও কাগজ রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মারিব আহমাদ।
এর আগে ১২ ডিসেম্বর বিকেলে অনলাইন মিটিং এর মাধ্যমে নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মাতলুব আহমাদ এ পণ্য উদ্বোধন করেন।
এ প্রসঙ্গে আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর বিজয় দিবসে নিটল-নিলয় গ্রুপ নতুন পণ্য রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা যোগ করার পরিকল্পনা করেই এগোচ্ছে।
কাগজের মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বিদেশ থেকে প্রতিবছর যে মানের কাগজ আমদানি করি, টারজান পেপার সেই মানের কাগজ যা আমরা তৈরি করছি। এর ফলে দেশের বাইরে থেকে কাগজ আমদানি করতে আমাদের যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয় তার সাশ্রয় হবে। বরং কাগজ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারব। উন্নত মানের কেমিক্যাল ও ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে উচ্চমান সম্পন্ন এই কাগজ তৈরি করছি আমরা। আমাদের রয়েছে ৭২ লক্ষ রিম কাগজ উৎপাদন করার ক্ষমতা।
মাতলুব জানান, আমাদের পেপারে ১২ বছরের গ্যারান্টি দিচ্ছি। এর মধ্যে ফেড হলে আমরা ১ টার বদলে ৩ টা দিবো। নতুন বছরে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে যাবে এই কাগজ। সাশ্রয়ী মূল্যে ক্রয় করতে পারবে সবাই।
এছাড়া ক্রেতাদের জন্য বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, লটারিতে যারা ৩২৫ টাকায় ১ রিম কাগজ কিনবে প্রতি মাসে লটারির মাধ্যমে ১ টা হিরো মোটরসাইকেলসহ গিফট দেয়া হবে। সিম কার্ড, মোটরসাইকেলসহ এক্সাইটিং গিফট অফার থাকবে।
নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মারিব আহমাদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাকরির পরিবর্তে আত্মকর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসার ক্ষেত্রেও অন্য দেশের চেয়ে আমাদের দেশ অনেকাংশে এগিয়ে আছে। গত ত্রিশ বছর ধরে আমরা জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে নিটল-নিলয় গ্রুপ দেশের রপ্তানিতে অবদান রাখতেই জাতির জনকের জন্ম শতবার্ষিকীর বিজয়ের মাসে টারজান পেপার রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। এবারো আমরা এই পণ্যের মাধ্যমে সফল হবো বলে আশা করছি। জাতির জনকের নেতৃত্বে এদেশ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে আমরা লড়াই করছি। ইনশাল্লাহ এ লড়াইয়েও আমরা জয়ী হবো।
মারিব আহমাদ জানান, ২৬ ডিসেম্বর থেকে প্রথমে চায়না এবং আফ্রিকা রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এই দুই দেশ ছাড়াও আরো কোনো দেশে রপ্তানির বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? এই প্রশ্নের জবাব দেন নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মারিব আহমদ।
তিনি বলেন, শুরুটা আমাদের সিঙ্গেল স্টেপ দিয়ে কিন্তু এক সময়ে আমরা অনেক দূরে যাব। আমাদের সাধ্য কম, কিন্তু স্বপ্ন বড়। ইউরোপে কাগজ শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু বাংলাদেশে সস্তায় শ্রম তাই কাগজ শিল্পের ভবিষ্যৎ ভালো। এছাড়াও চায়না ও আফ্রিকা ছাড়াও আশপাশের দেশগুলোতে রপ্তানির পরিকল্পনা আছে।
ইত্তেফাক/এএএম