৩০০ একর জমির চাষাবাদ ব্যাহতের আশঙ্কা!

রাঙ্গুনিয়ায় সেচ সংকট

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

রাঙ্গুুনিয়ায় বোরো মৌসুমে পানির অভাবে ৩০০ একর জমির চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর ও কুলকুরমাই গ্রামের টিব্বা বিল, মগ বিল, খিয়াং বিলসহ আশপাশের বিল এলাকায় জমিতে সেচ সংকট দেখা দেয়। স্থানীয় দৈবকীনন্দন কৃষি সমবায় সমিতির সদস্য আরিফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘কুলকুরমাই খালের খনন, পাড় ভাঙন রোধ, প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় প্রায় প্রতিবছরই কুলকুরমাই খালে পানি শুকিয়ে যায়। চাষাবাদে কৃষক চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।’ বিলের সেচ স্কিম ব্যবস্থাপক ছৈয়দুল হক চৌধুরী বাদশা বলেন, ‘গুমাই বিল থেকে কুলকুরমাই খালের প্রবেশ মুখ ভরাট হয়ে গেছে। পশ্চিমে ইছামতী থেকেও প্রবেশ মুখেই একটি স্লুইস গেইট বছরের পর বছর বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। তাই অন্তত গুমাই বিল থেকে শুরু করে খালের পাঁচ কিলোমিটার অংশ খনন করা এবং বিকল স্লুইস গেইট মেরামত করা হলে কুরমাই খালে পানির স্বাভাবিক পানির প্রবাহ সৃষ্টি হবে। অন্যথায় স্থানীয় বিলসহ গুমাই বিলের হাজার হাজার একর জমি অনাবাদী হয়ে যাবে। ইছামতি ইউনিটের পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কুলকুরমাই খালটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় আশপাশের বিলের সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, সেচ সংকটের কারণে বোরো মৌসুমে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিএডিসির (কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) চট্টগ্রামের সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিত্ দাশ গুপ্ত বলেন, ‘খরা মৌসুমে অনাবাদি জমিগুলোকে আবাদের আওতায় আনতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সেচ প্রকল্প সরেজমিনে দেখে এসেছি। কুলকুরমাই খাল খনন করার ব্যাপারে এরই মধ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করব।’