স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
বৃহত্তর কুমিল্লার সর্ববৃহত্ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদই শূন্য হয়ে আছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ দুটি পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ দুটি পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন। আর্থিক বিষয়ে তার স্বাক্ষর করার সুযোগ না থাকায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিকসহ নানা কাজকর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কুমেক হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, এই হাসপাতালের পরিচালকের পদ থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরজনিত ছুটিতে যান ডা. মো. মজিবুর রহমান। এ সময় ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব বুঝে নেন এই হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুব আলম। তিনিও গত ১ ডিসেম্বর অবসরে যান। এদিন থেকে ঐ দুটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন কুমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন। এদিকে এ দুটি পদে নিয়োগ পেতে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ডজনাধিক কর্মকর্তা রাজনৈতিকসহ নানাভাবে জোর চেষ্টা ও তদবির অব্যাহত রেখেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকের দুটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজকর্মসহ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সার্বিক বিষয় তাদের তদারক করতে হয়। এছাড়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা এবং হাসপাতালের যাবতীয় বিল-ভাউচারসহ সব নথিতে তাদের স্বাক্ষর করতে হয়। কিন্তু আর্থিক লেনদেনের বিল-ভাউচারে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের স্বাক্ষর করার বিধান না থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ দুটি পদে জরুরি ভিত্তিতে লোক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন কুমেক হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন বলেন, ‘পরিচালকের পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে থেকে আর্থিক লেনদেনের বিল-ভাউচারে তার স্বাক্ষর করার সুযোগ নেই। তবে হাসপাতালের প্রশাসনিকসহ চলমান কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এ পদে (পরিচালক) শিগিগর নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ সার্বিক কাজে গতি আরো বাড়বে।