গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০২০
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা অতিমারি শুধু স্বাস্থ্য খাতে নয়, অর্থনীতিকে গভীর মন্দায় ফেলেছে। ইতিমধ্যে ২০০৮-০৯ সালে অর্থনৈতিক সংকটকে ছাড়িয়ে গেছে এর প্রভাব। সমনের সময়গুলোতে আরো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এখন জরুরি অগ্রাধিকার হলো স্বাস্থ্য খাত। অর্থনীতিতে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে উত্পাদনশীলতা এবং উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। গতকাল বুধবার গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০২০ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈশ্বিক সক্ষমতা সূচক আকারে প্রকাশ করলেও এবার করোনার অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে সেটি করা হয়নি। বিভিন্ন দেশে ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে জরিপ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে সার্বিক ভাবে মূল্যায়ন ও সুপারিশ করা হয়েছে। এবার একটি অনিশ্চত সময়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে ওয়াল্ড ইকোনমিক ফোরাম উল্লেখ করেছে, এখন জরুরি অগ্রাধিকার হলো স্বাস্থ্য খাত। নতুন অর্থনৈতিক রূপান্তরে উত্পাদনশীলতা, সাধারণ মানুষ এবং এই ধরিত্রিকে অর্থাত্ জলবায়ু ঠিক রাখতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক সময়ে উদ্ভাবনী এবং নীতির পরিবর্তনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোভিড-১৯ পরবর্তী আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের অর্থনীতির গতি কী হবে সে বিষয়ে নীতি সংশোধন করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। করোনার আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্বচ্ছতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন দীর্ঘ মেয়াদে জনগণকে সেবা দেওয়ার রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মেকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নত করার পাশাপাশি আগামী দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কী ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে সে বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোর উন্নতিসহ উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির আগেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঋণের চাপ বাড়ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ওপর আরো চাপ বেড়েছে। এই সংকট কাটাতে দেশগুলোকে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাজারের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে পরিপূরক নীতি গ্রহণের পাশাপাশি দেশগুলোকে ‘আগামী দিনের বাজার’ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারত্বের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এবারের প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীদের মতামত অনুযায়ী কিছু বিষয়ে আস্থা কমেছে আবার কিছু বিষয়ে আস্থা বেড়েছে। গড় হিসেবে আগের বছরের তুলনায় উদীয়মান দেশগুলোতে ব্যবসায়ীক খরচ বৃদ্ধি এবং সহিংসতার মতো বিষয়ে আস্থা সবচেয়ে বেশি কমেছে। অন্যদিকে করোনার সময়কালে বিভিন্ন দেশের সরকার ঘোষিত প্রণোদনার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বেড়েছে। তাছাড়া ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াতে তহবিলের জোগাড়েও আস্থার উন্নতি হয়েছে।