অনলাইন গেমে আসক্তিতে তরুণ-তরুণীরা

অনলাইন ক্লাস চালু হওয়ায় তড়িঘড়ি করে সন্তানের জন্য স্মার্ট ফোন কিনে দিয়েছেন অধিকাংশ অভিভাবক। সেই স্মার্ট ফোন-ই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে উঠতি বয়সি শিক্ষার্থীদের জন্য। হাতে স্মার্ট ফোন পেয়ে মেতে উঠেছে বিভিন্ন অনলাইন গেমে। সময়ের বিবর্তনে এসব অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি বেড়েই চলেছে ক্রমশ। বর্তমানে এটি একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তির উত্কর্ষতায় দিন দিন মানুষের স্মার্ট ফোন ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণীরা প্রযুক্তির ছোঁয়া সব থেকে আগে গ্রহণ করছে। তারা ভালো-মন্দ বাদ বিচার না করেই বিভিন্ন অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

দিনে দিনে মানুষের স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে অনলাইন গেমের সহজলভ্যতা। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইন গেমগুলোকেও আরো আনন্দদায়ক এবং অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলছে। তাই তো তরুণ-তরুণীরা বেশি করে ঝুঁকে পড়ছে এসব অনলাইন গেমে। ইতিমধ্যেই অনলাইন গেম মানসিক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাদকাসক্তির মতো অনলাইন গেম খেলাতেও আসক্ত হয়ে পড়ছে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসির তথ্য মতে অক্টোবর-২০২০ পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১০ মিলিয়ন যার মধ্যে মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০২ মিলিয়ন। যা বছরের শুরুতে ছিল ৯৯ মিলিয়ন এবং তার মধ্যে মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯৩ মিলিয়ন। ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন গেমের প্রচার প্রসার। সরাসরি এর কুপ্রভাব পড়ছে কিশোর-কিশোরীদের মনে।

একটা সময় যখন ছেলেমেয়েরা ধূলিমাখা কাপড়, মলিন চেহারা নিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরত, তখন অভিভাবকেরা শঙ্কায় থাকত, সঙ্গদোষে সন্তানদের খারাপ হয়ে যাওয়ার ভয়ে। এর হাত থেকে রেহাই পেতে অনেকেই আবার সন্তানদের গৃহবন্দি রেখে হাতে তুলে দিয়েছে স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার। যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সন্তানদের ফেরাতে পারছে না অনলাইন গেম নামক ভয়াবহ মানসিক সমস্যা থেকে।

পাবজি, ফ্রি ফায়ার, মোবাইল লিজেন্ডসহ এসব গেম খেলতে প্রয়োজন প্রচুর ইন্টারনেট ডাটা। একদিকে যেমনি অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রয়োজন, তেমনি এসব ভিডিও গেম খেলার জন্য প্রয়োজন প্রচুর সময়ের। তাই তো দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, তখনো চলতে থাকে এসব ভয়াবহ অনলাইন গেম। তরুণ-তরুণীরা একদিক দিয়ে যেমন সংসারের কোনো কাজ করে না, অন্যদিকে একটি সংসারের জন্য, তার অভিভাবকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সেই সঙ্গে ইন্টারনেট কেনার জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট টাকার। এসব টাকা জোগাড় করতে কোনো কোনো সময় জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অপকর্মে।

অনলাইন গেম আসক্তি রোধে দরকার পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার। দরকার পারিবারিক সুসম্পর্কের। জোর দিতে হবে সুশিক্ষার ওপর। পরিবারের একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনোদন মূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত। উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণীরা যাতে এরকম ভয়াবহ মানসিক রোগে আক্রান্ত না হয়, তার জন্য সর্বদা সন্তানের খোঁজখবর নেওয়া উচিত। দেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীরা যদি এরকম অনলাইন গেমে আসক্ত হয় তাহলে দেশের অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

যখন যুব সমাজের ওপর ভর করেই আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার সময় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখনই এরকম অনলাইন গেম দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে। তাই এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বুদ্ধিদীপ্ত এবং ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এসমস্ত ভয়াবহ মানসিক রোগের হাত থেকে উত্তরণের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে তরুণ-তরুণীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়