প্রাকৃতিক জলাশয়ের মালিকানা কার?

নদী দখল হয়ে খালে পরিণত হচ্ছে, খাল ছোট হয়ে ড্রেনের রূপ ধারণ করছে! বিল-ঝিল ভরাট হয়ে গড়ে উঠছে আবাসন প্রকল্প। নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করতেও দেখা যায়। জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে নদী-নালার পানি উপচিয়ে বন্যা দেখা দেয়। আবার বন্যার পানি নামতে শুরু করলে শুরু হয় নদী ভাঙনের মতো আরেক দুর্যোগ। শুষ্ক মৌসুমে এসব জলাশয় শুকিয়ে সব মাছ ধরে ফেলা হয়। যার ফলে সব ধরনের জলজ বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। ঢেলা, গুতুম, বাইড়, টেংরাসহ একসময়ের দেশি সুস্বাদু নানা জাতের মাছ এখন সহসা চোখে পড়ে না। প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে চাষের মাছের আধিক্যই লক্ষণীয়। এসব সমস্যার মূল এক আর  সেটা হলো—নদ-নদী এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোর অবৈধ ব্যবহার। যদিও নদী দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান, প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব স্থাপন, খাল-বিল শুকিয়ে মাছ না-ধরার জন্য জনসচেনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার পরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ সিন্ডিকেটের আগ্রাসনে খাল-বিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায়, প্রশাসনের কাছে কঠোর নজরদারিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।

মো. আফসারুল আলম মামুন

পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন,

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়