পেনশনে পুনঃস্থাপন

গত ১৪ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ— পেট্রোবাংলার পেনশনে পুনঃস্থাপিত শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেনশন গত সেপ্টেম্বর থেকে স্থগিত করা হয়েছে। তার আগে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীরা পেনশনে পুনঃস্থাপনের সুযোগ পাবেন না। সাধারণ বীমা কর্পোরেশন অবশ্য এটা দেওয়ার পক্ষপাতি ছিল না। তা না হলে পেনশনে পুনঃস্থাপনসংক্রান্ত অর্থ বিভাগের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পর এবং তাদের পরিচালনা পর্ষদের দ্বারা অনুমোদনের পর সেটি আবার অর্থ বিভাগের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতো না। এক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ ঠিক কাজটি করেছে। কেননা তাদের সিদ্ধান্ত তাদের অধস্তনেরা অনুমোদন করবে এবং সেই সিদ্ধান্ত আবার অনুমোদন করতে হবে—এটা ভাবা যায় না। ঘটনাটা বনফুলের ‘খাজাঞ্চি বাবু’ গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু পেট্রো বাংলার পেনশন সমর্পণকারীরা কী অপরাধ করেছেন বুঝতে পারছি না। পত্রিকার খবর অনুযায়ী তাদের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জুলাই ১৭ থেকে পুনরায় পেনশন ভোগ করে আসছিলেন। এখানেও হয়তো কেউ আগ বাড়িয়ে জানতে চেয়েছে যে তাঁরা সেটা পাবেন কি না। সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকার যে বেতনস্কেল ঘোষণা করেছে তাতেও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও এদের সবার জন্যই তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেতন কাঠামো ঘোষণা করা  হয়েছে। এসব বেতন কাঠামোতে প্রায় একই ধরনের বেতনভাতার বিধান রয়েছে। অতএব সরকার যখন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পেনশনে পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তর, প্রতিষ্ঠান, কার্যালয়কে তার অনুলিপি প্রদান করে, তখন তা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে ধরে নিতে হবে; যদি না সংশি­ষ্ট প্রজ্ঞাপনে বিশেষভাবে বলা হয় যে এটি শুধু ওমুকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অথবা তমুকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই বলা যায়—যদি সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, পেট্রোবাংলা বা অন্য কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, দপ্তর, অধিদপ্তরের কর্মচারীগণ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত চাকরি বিধিমালার আওতায় বেতনভাতা ভোগ করেন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারি পেনশন বিধি-বিধান অনুযায়ী পেনশন ভোগ করতে এবং পেনশন সমর্পণ করতে পারেন, তাহলে পেনশনে পুনঃস্থাপিত হতে পারবেন না কেন? 

ওয়াহিদুল ইসলাম আখন্দ

৫৭০/১-বি, সেনপাড়া-পর্বতা, ঢাকা ১২১৬