বিশেষ প্রতিনিধি
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মাদ আহসানুল জব্বার জানিয়েছেন, ইয়াবাসহ মাদক পাচার রোধে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে নিয়োজিত থাকা দুই দেশের জেলেদের নাম-ঠিকানাসহ একটি ডেটাবেজ তৈরিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মহাপরিচালক পর্যায়ে চতুর্থ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনলাইন প্ল্যাটফরমে (জুম) অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফ করেন তিনি (মহাপরিচালক)।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি মোহাম্মাদ আহসানুল জব্বার নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও বাংলাদেশের পক্ষে মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ১৮ জন অংশ নেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মহাপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, জেলে ও মাছ ধরার নৌকা এবং ট্রলারের একটি ডেটাবেজ তৈরি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের উত্স, মাদক পাচারের রুট ও স্পটের তথ্য বিনিময় করতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীদের ইয়াবা তৈরির কারখানার বিষয়েও মিয়ানমারকে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসব কারখানা ধ্বংস করার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার।
সভায় মিয়ানমার বাংলাদেশকে জানিয়েছে, দেশটি ইতিমধ্যে তাদের দেশের শান, রাখাইন ও মোংডু রাজ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। সভায় দুই দেশ সম্মত হয়, মাদক পাচারের ক্ষেত্রে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের তালিকা উভয় পক্ষ নিয়মিত হস্তান্তর করবে। মাদক সরবরাহ হ্রাস, চাহিদা হ্রাস ও ক্ষতি হ্রাসের ক্ষেত্রে নিয়মিত অভিজ্ঞতা এবং তথ্য বিনিময় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
টেকনাফ ও মোংডু এলাকায় লিয়াজোঁ অফিস স্থাপিত হওয়ার পর এখনো নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করছে, শিগিগরই সভা অনুষ্ঠিত হবে। নিত্যনতুন মাদক পাচারের কৌশলের সঙ্গে আপডেট হওয়া এবং গোয়েন্দা তথ্য একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত আদান-প্রদানের সিদ্ধান্ত বৈঠকে গৃহীত হয়। ইয়াবা তৈরির উপাদান পাচারের ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময় এবং অভিযান পরিচালনার বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মত হয়। এসব উপাদান চীন ও থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে এমন সন্দেহের কথাও তারা বৈঠকে জানিয়েছেন। পরবর্তী সভা ২০২১ সালে কোভিড পরিস্থিতি উন্নতি হলে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে।