বিজয়ের ছুটিতে লোকারণ্য কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। ভিড় জমছে বঙ্গবন্ধুর বালি ভাস্কর্যে। এদিকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনেও নেমেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল। অনেকেই সৈকতের বালিয়াড়িতে রাত কাটাবেন বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার প্রতিনিধি সায়ীদ আলমগীর জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আতঙ্কক পাশ কাটিয়ে ৪৯তম বিজয় দিবসের ছুটিতে পর্যটকে সরগরম হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকা। সম্প্রতি দুর্গাপূজা এবং প্রতি সপ্তাহিক ছুটিতে বালিয়াড়ি লোকারণ্য হয়ে উঠলে অগ্রহায়ণের শেষের দিকে করোনার ভয়ে কক্সবাজারে পর্যটক আসা কমছিল। কিন্তু বিজয় দিবসের ছুটিকে উপলক্ষ্য করে মঙ্গলবার থেকেই পূর্ণ হয়ে যায় সৈকতের হোটেল-মোটেল-কটেজ ও গেস্ট হাউজগুলো। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহর থেকে বালিয়াড়িতে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। এদিন বালিয়াড়িতে বঙ্গবন্ধুর বালি ভাস্কর্য উদ্বোধন হলে সেখানে ভিড় বাড়ে দর্শনার্থীদের। এতে লোকারণ্য হয়ে ওঠে পুরো সৈকত। বেড়াতে আসা পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য সেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজারে সাড়ে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে রয়েছে; যেখানে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করতে পারেন। সপ্তাহিক ছুটিতেও প্রায় লাখো পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। শতভাগ বুকিংয়ে জমজমাট ব্যবসা করছে তারকা হোটেলগুলো।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ ইসলাম জানান, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্যতালিকা টানানোর নির্দেশনা পালিত হচ্ছে কি না, তার তদারক চলছে নিয়মিত। সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্যকেন্দ্র (ইনবক্স)। করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সর্বদা সচেতনতামূলক মাইকিং এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব সময় সতর্কাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকদের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার রোধে, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশে পুরুষ-মহিলা পুলিশও সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ সংবাদদাতা জানান, সেন্টমার্টিনে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল নেমেছে। এক দিনের সরকারি ছুটি, শুক্র ও শনিবার মিলে তিন-চার দিনের কর্মহীন সময়ের ফাঁকে ছুটি কাটাতে পরিবার ও নিকটজনদের নিয়ে পর্যটকেরা ছুটে এসেছেন সেন্টমার্টিনে। রাত্রিকালীন সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজারো পর্যটক এখন সেন্টমার্টিনে অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যে দ্বীপের শতাধিক আবাসিক হোটেল ও কটেজ পর্যটকে ভরে গেছে। হোটেল মালিকেরা জানান, লকডাউন-পরবর্তী সময়ে ছুটির সুযোগে মুজিববর্ষের বিজয় দিবস উদ্যাপন করতে আগে থেকেই পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনের হোটেল ও কটেজ বুকিং দেন। এমনকি হোটেল-কটেজ পরিপূর্ণ হলে হাজারো পর্যটক সৈকতের বালিয়াড়িতে রাত কাটাবেন বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়া থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক প্রতীক হাসান বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপে রাত যাপন করার শখ ছিল দীর্ঘদিনের। বিজয় দিবসের আনন্দ উদ্যাপন করতে তাই পরিবার নিয়ে প্রবাল দ্বীপে ছুটে এসেছি।’
সেন্টমার্টিন হোটেল-কটেজ মালিক সমিতি ও দ্বীপ আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান জানান, বিজয় দিবস উদ্যাপনে পর্যটকেরা প্রতি বছর সেন্টমার্টিনে আসেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দ্বীপের হোটেল-কটেজ মালিক সমিতি সব সময়ই পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ নুর আহমদ জানান, বিজয় দিবসের ছুটিতে ৭ হাজারেরও বেশি পর্যটক দ্বীপে এসেছেন। অনেক পর্যটক হোটেল-কটেজে জায়গা না পেয়ে ইতিমধ্যে তাঁবু ভাড়া নিয়েছেন। তারা সৈকতের বালিয়াড়িতে রাত কাটাবেন।
সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপুলিশ পরিদর্শক মো. মুস্তাকিম হোসাইন জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকেরা যেন অবাধে চলতে পারেন সেজন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের স্বার্থে বিচে মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।