ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী শান্তি কমিটির নেতা ও রাজাকার বাহিনীর সংগঠকের নামে পোস্ট অফিস স্থাপন করা হলেও প্রশাসনের নজরে তা আসে দীর্ঘ ২৪ বছর পর। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।
শৈলকূপা উপজেলা শ্রীরামপুর গ্রামের শফিউদ্দিন আহমেদ আইয়ুব খানের মুসলিম লীগ থেকে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি তার গ্রামের নাম শ্রীরামপুর বদলে শফিপুর রাখেন। পরে শফিপুর নামে এক ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস স্থাপন করে ডাক বিভাগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রয়াত শফিউদ্দিন আহম্মেদ শান্তি কমিটির নেতা হিসেবে ঝিনাইদহ ও শৈলকূপায় রাজাকার বাহিনী গড়ে তুলতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ঝিনাইদহ ও শৈলকূপা হানাদার মুক্ত হলে তিনি আত্মগোপনে যান। পরে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলে পাঠানো হয়। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ছাড়া পান। ১৯৯১ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি মারা যান। এরপর তার নামে গ্রামে একটি পোস্ট অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেয় তার পরিবার। তার স্ত্রী খাদিজা আহম্মেদ পোস্ট অফিস স্থাপনের জন্য ১৯৯৫ সালে ডাক বিভাগে আবেদন করেন। ১৯৯৬ সালে ১২ জুন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শপথ গ্রহণের আগের দিন ২২ জুন তার বাড়িতে তড়িঘড়ি করে শফিপুর নামে পোস্ট অফিস স্থাপন করে ডাক বিভাগ।
শফিউদ্দিন আহম্মেদের ভাই রফিউদ্দিনের স্ত্রীকে নতুন পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তিনি পদত্যাগ করলে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে পোস্ট অফিসের কোনো সাইন বোর্ড পাওয়া যায়নি। দোচালা একটি টিনের দেওয়ালে একটি পোস্ট বক্স ঝুলতে দেখা যায় মাত্র।
আরও পড়ুন: ফুলবাড়ী সীমান্তে অস্ত্রসহ গুলি ও মাদক উদ্ধার
শৈলকূপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শান্তি কমিটির নেতা তালিকাভুক্ত রাজাকার শফিউদ্দিনের পোস্ট অফিস স্থাপনের বিষয় জানার পর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হাই জানান, শফিউদ্দিন আহম্মেদ শান্তি কমিটির নেতা ছিলেন এবং তিনি তালিকাভুক্ত রাজাকার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীকে নিয়ে গিয়ে শৈলকূপার বসন্তপুর গ্রামে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ উঠে। তার নামে পোস্ট অফিস স্থাপনের বিষয়টি দুঃখজনক।
জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, বিষয়টি জানার পর কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন। নাম বদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি