রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে সরকার দলীয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মুখোমুখি

রাজশাহী জেলা পরিষদের জমিতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে সরকার দলীয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। ইতিমধ্যে নকশা জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। জেলা পরিষদের ওই জমিতে গত বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করা হয়েছে। এসময় রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ওই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে অবৈধ আখ্যায়িত করে বলেন, জেলা পরিষদের জমিতে সিটি করপোরেশন কোনো নির্মাণ কাজ করতে পারেন না। জেলা পরিষদ এখন নিজেদের টাকাতেই ওই জমিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করতে চায়। এই বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা পরিষদ একই কথা জানায়। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহান ভাষা আন্দোলনের শুরুতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি রাতেই রাজশাহী কলেজ হোস্টেলের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ইট ও কাদামাটি দিয়ে দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলেন। যদিও ওই শহীদ মিনারের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনও মেলেনি। শুধু তাই নয়, ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছরেও রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি।

রাসিক সূত্রে জানা যায়, সকলের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ইতিমধ্যে নকশা চূড়ান্ত এবং সাড়ে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দও পাওয়া গেছে। কিন্তু জেলা পরিষদের জমিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেছে জেলা পরিষদ। তারা বলছে, জমি নিয়ে সমঝোতার আগেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে শুভ্র হত্যায় মেয়র রফিকুল রিমান্ডে
 
তবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আপত্তি করে লাভ নেই। শহীদ মিনার এখানেই হবে। রাজশাহীতে এতোদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছিল না। আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। শহীদ মিনার একটা আবেগের জায়গা। এখানে সভা-সমাবেশ হবে। মানুষ এসে তার মনের কথা বলবে। দ্রুতই সবাইকে নিয়ে সভা করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু দেব।

মহাজোটের শরীক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, জেলা পরিষদ এখন নিজেদের টাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের কথা বলছে। কিন্তু টাকা তো চাইতে হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সেই টাকা আগেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন। একবার ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে এলে সেই ট্রেন ঘুরে এসে আবার নতুন করে ছাড়ে না। অতএব, সেইসমস্ত বক্তব্য অবান্তর, অবাস্তব, অরাজনৈতিক, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনকে অবমাননাকর এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননাকর।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে আমরা দেব না। এটা আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বাস্তবায়নের জন্য রাসিক মেয়র মিটিং ডাকবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে আমি ওই মিটিংয়ে যাব। মেয়রের এই উদ্যোগকে আমি পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্থন করি। ভাষা আন্দোলনের সময় যারা রাজশাহী কলেজে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলেন, তারা ২০২০ সালে এসেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য এখানে এসেছেন। তাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এখানে হবে, কেউ বাধা দিতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৪ ডিসেম্বর স্থানীয় ১৪ দলের সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু। ফলক উন্মোচন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্যও দেন তিনি। 

ইত্তেফাক/এসি