কুড়িগ্রামের বালুচরেও ফলছে ফসল

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বীজের ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন। বালুময় জমিতে ফসল ফলিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। সনাতন চাষাবাদ পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল চরের খেটে খাওয়া মানুষগুলো উন্নত ও আধুনিক ব্যবস্থা প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষির ব্যাপক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে। জানা গেছে, নদনদী অববাহিকার চার শতাধিক চরাঞ্চলে ফসল ফলানো হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক শমসের আলী, মজিবর রহমানসহ আরো অনেকে জানান, শহর থেকে উন্নতমানের বীজ জোগাড় করতে না পারায় আধুনিক পদ্ধতি না জানায় চরের মাটিতে ফলনও ভালো হতো না। কিন্তু বর্তমানে সেচের ব্যবস্থা থাকায় উন্নত জাতের বোরো ধানের পাশাপাশি উন্নত জাতের ভুট্টা, গম, সরিষা, সূর্যমুখী, চীনাবাদাম, টম্যাটো, মসুর ডাল, খেসারি ডাল, মুগ ডাল মরিচ, পেঁয়াজ চাষ করা হচ্ছে। এখন মিষ্টিকুমড়া, লাউ, সূর্যমুখী, ভুট্টাসহ উন্নত জাতের নানা ধরনের ফসল-সবজি উত্পাদন করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। চরের জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষের পাশাপাশি গরু, ছাগল, ভেড়া, মুরগি পালনেও এগিয়ে এসেছে চরবাসীরা।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের বীজ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থেকে চরাঞ্চলের মানুষ এখন স্বাবলম্বী হচ্ছে। নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে বালুময় চরাঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির বিপ্লব ঘটিয়ে কুড়িগ্রামের আর্থসামাজিক অবস্থার সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, আগে চরাঞ্চলের কচকচে বালুময় জমিতে ফসল চাষ করে প্রকৃতিগতভাবে যা ফলন হতো তা দিয়েই কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সেচের ব্যবস্থা থাকায় উন্নত জাতের বোরো ধানের পাশাপাশি উন্নত জাতের ভুট্টা, গম, সরিষা, সূর্যমুখী, চীনাবাদাম, টম্যাটো, মসুর ডাল, খেসারি ডাল, মুগ ডাল, মরিচ, পেঁয়াজ চাষ করা হচ্ছে। এতে ফলনও অনেক ভালো হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের দুঃখ-কষ্টের দিনগুলো পেছনে ফেলে আধুনিক চাষাবাদে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মন্জুরুল হক জানান, চরাঞ্চলসহ জেলার ১ লাখ ১৯ হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনার আওতায় উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকদের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিনা মূল্যে বীজ, সার প্রদানের পাশাপাশি লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা গতানুগতিক চাষাবাদ থেকে সরে এসে চরাঞ্চলে আধুনিক পদ্ধতিতে উত্পাদিত অতিরিক্ত ফসল ও সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।