কৈচর বধ্যভূমিতে ২৬ শহিদ স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর বগুড়া শহরের অদূরে অবহেলায় পড়ে থাকা কৈচর বধ্যভূমিতে ২৬ জন শহিদের স্মরণে নির্মিত হলো স্মৃতিস্তম্ভ। সম্প্রতি এটি উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধকালে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী মজিবর রহমানসহ বেঁচে থাকা আরো কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে গণকবরটির অবস্থান নিশ্চিত হন ফাঁপোড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহররম আলী। পরে বগুড়া জেলা প্রশাসক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিত আকারে জানালে তারা স্থানটি সংস্কার এবং নামফলক নির্মাণের অনুমতি দেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া প্রত্যক্ষদর্শী মজিবর রহমান সেই দিনের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে ২৬ জন যুবককে লাইনে দাঁড় করিয়ে এখানে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। লাশগুলো মাটি চাপা দেওয়ার জন্য যে ছয় জনকে ডেকে আনা হয় তাদের একজন আমি নিজে।

ফাঁপোড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহররম আলী জানান, গত আগস্ট মাসে ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এক মিটিংয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তাকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বলেন। এরই সূত্র ধরে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হলো। যেসব শহিদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন—শহরের চেলোপাড়ার কালিপদ সিংহ, কর্ণ প্রসাদ সিংহ, গজেন্দ্র নাথ সিংহ, শ্যামল চন্দ্র সিংহ, শ্রীবাস দাম, গোলক চন্দ্র দাম, ননী চন্দ্র দাম, সুধীর চন্দ্র দাম, নিতাই চন্দ্র দাম, পল্লাদ চন্দ্র দাম, সুধাংশু চন্দ্র দাম, কাটনারপাড়ার গৌর গোপাল মোহন্ত, ডোমন গ্রামের হীরেন্দ্র নাথ সাহা, নারায়ণ চন্দ্র প্রাং, নগেন্দ্র নাথ সাহা, রঘুনাথ পুরের বিনয় চন্দ্র সাহা, গণেশ চন্দ্র, ধোপা পাড়ার হরি দত্ত, নিতাই চন্দ্র দাম, গোবিন্দ মোহন্ত ও গুপিচন্দ্র দাম। বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বগুড়ার কৈচর বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাসে এই শহিদদের গণকবরটিও অন্তর্ভুক্ত হলো।