২০৩০ সালের মধ্যে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলার হবে :অর্থমন্ত্রী

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারে (৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা) উন্নীত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমরা আগেই ঠিক করেছিলাম ৩০ ডিসেম্বরের আগে রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারে (৩ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা) নিয়ে যাব, আমরা তার আগেই তা নিয়ে যেতে পেরেছি। এটিই জাতির জন্য পাওয়া। আমি মনে করি আমাদের কমিটমেন্ট আছে ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাব। প্রত্যাশা করি সে লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারব।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। উন্নয়ন প্রকল্পে রিজার্ভ ব্যবহারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন বলে আমি মনে করি। বাইরে ইনভেস্ট করলে ১ থেকে ২ শতাংশের বেশি আমরা পাই না। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারি              প্রতিষ্ঠানে যদি বিনিয়োগ করা হয় এবং সেগুলো ডলারে রিসিভ করতে পারি তাহলে অর্থের প্রবাহ ঠিক থাকল এবং আমাদের ইনকামটাও অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন এবং স্টাডি করছেন আমাদের আগামীতে কী পরিমাণ ফান্ড প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে মেগা প্রকল্পে পেমেন্ট করার জন্য। সেসব বিষয় বিচার-বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন, বাজেটের আগেই হয়তো তিনি চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।

গতকালের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে একটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভার্চুয়াল উভয় সভা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল জানান, সভায় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটির বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জন্য ৭৫ কোটি টাকার ঢেউটিন সরাসরি পদ্ধতিতে ক্রয়ের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর আওতায় অন-লাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মোটরযানের কর ও ফি আদায়ের অতিরিক্ত সেবা ক্রয়ের জন্য সার্ভিস প্রোভাইডার মেসার্স কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস)কে চুক্তি মূল্যের অতিরিক্ত ৪৮ কোটি ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কাফকো, বাংলাদেশ হতে নবম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার, কাতার হতে নবম লটে ২৫ হাজার টন ইউরিয়া সার, সৌদি আরব হতে ১১তম লটে ২৫ হাজার টন ইউরিয়া সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।