ফাইজার-বায়োএনটেক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পিছনে থাকা তুর্কি-জার্মান মুসলিম দম্পতি উগুর শাহিন ও ওজলেম তুরেসিকে ‘পিপল অব দ্য ইয়ার’ খেতাবে ভূষিত করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ফিন্যানসিয়াল টাইমস (এফটি)। বুধবার এক নিবন্ধে দ্য ফিন্যানসিয়াল টাইমস বলেছে, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি করে এই দম্পতি এক দুর্দান্ত ও বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ও ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছেন। ‘দৈনিকটিকে বায়োএনটেকের প্রধান নির্বাহী ডা. উগুর শাহিন বলেন, আমরা নার্ভাস ছিলাম। পরীক্ষাগারের বাইরে প্রথমবারের মতো মানুষের ভ্যাকসিন নেওয়াটা ভিন্ন এক বিষয়। ডা. উগুর শাহিন ও তার স্ত্রী ডা. ওজলেম তুরেসির প্রতিষ্ঠা করা ওষুধ কোম্পানি বায়োএনটেক তার মার্কিন অংশীদার ফাইজারের সঙ্গে মিলে পরীক্ষামূলক টিকা তৈরি করতে সক্ষম হন। তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শেষে ভ্যাকসিনটির ইতিবাচক ফলাফল ঘোষণা এবং তাদের এই প্রচেষ্টা বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি সংকটের অবসান ঘটাতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পত্রিকাটি জানায়, ভ্যাকসিনের প্রথম তৈরিকারকরা যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য দুই নিয়ামক শক্তির অনুমোদন পেতে যাচ্ছে সে হিসেবে এফটির পুরস্কারটি ডা. শাহিন এবং ডা. তুরেসি পেলেন। তারা একটি অসাধারণ বৈজ্ঞানিক এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্পের প্রতীক।
ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণার পর জার্মানির অনকোলজি এবং ইমিউনোলজি জগতের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী শাহিন ও তুরেসির সফলতা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর শিরোনাম হয়। উভয় বিজ্ঞানীই জার্মানির ৩ মিলিয়নের শক্তিশালী তুর্কি সম্প্রদায়ের সদস্য উল্লেখ করে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ লিখে, এই ভ্যাকসিনের পিছনে রয়েছে জার্মান দম্পতির এক অভিবাসী সাফল্যের গল্প। জার্মান দৈনিক ডের টাগেস্পিগেল শিরোনাম করে, ‘অভিবাসীদের সন্তানরা যেভাবে বিলিয়নিয়ার হলো: করোনা-ভ্যাকসিনের পিছনের দম্পতি।’ শাহিন এবং তুরেজা দুই জনই ১৯৬০-এর দশকে তুরস্ক থেকে জার্মানিতে পাড়ি জমানো অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান। তুরস্কের জনপ্রিয় পত্রিকা ’ডেইলি সাবাহ’ জানায়, ১৯৬৫ সালে তুরস্কের ইস্কেন্দারুনে জন্মগ্রহণকারী শাহিন চার বছর বয়সে জার্মানিতে যান। সেখানে তার বাবা একটি গাড়ির কারখানায় কাজ করতেন। তিনি কোলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিত্সা বিষয়ে পড়াশোনা করে বেশ কয়েক বছর সারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে কাজ করেছেন। তুরেসি ইস্তাম্বুল থেকে জার্মানি আসা তুর্কি চিকিত্সকের মেয়ে। তিনি সারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন অনুষদে চিকিত্সা বিষয়ে অধ্যয়ন করেছেন। তিনি জার্মানিতে ক্যানসার ইমিউনোথেরাপির পথিকৃত্।