ব্যবসায়ীদের মতে সবচেয়ে বড় সমস্যা অদক্ষ প্রশাসন ও দুর্নীতি

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অদক্ষ সরকারি প্রশাসন ও দুর্নীতিকে বড় সমস্যা বলে মনে করেন এদেশের ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, এখনকার তরুণ ও যুবক যারা শ্রমশক্তিতে রয়েছেন, তারা পূর্বসূরিদের চেয়ে ভবিষ্যত্ জীবনমান নিয়ে বেশি চ্যলেঞ্জে পড়বেন। বিশেষ করে দক্ষ, প্রশিক্ষিত এবং কর্ম উপযোগী শিক্ষিত শ্রমশক্তির অভাব রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) করা ব্যবসায় পরিবেশ সমীক্ষা প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন-২০২০ প্রকাশ উপলক্ষ্যে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি। এবারে করোনার কারণে অন্যান্য বছরের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকের র্যাংকিং প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় অংশীদার হিসেবে সিপিডি-সহায়ক প্রতিবেদন আকারে বাংলাদেশের ব্যবসায় পরিবেশ সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে ১০ কোটি টাকার ওপর সম্পদ আছে এমন ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি উল্লেখ করেন, জরিপে দেখা যায়, ৭২ শতাংশ ব্যবসায়ী অদক্ষ সরকারি প্রশাসনকে শীর্ষ সমস্যা হিসেবে দেখছেন। তাদের দৃষ্টিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বড় সমস্যা হলো যথাক্রমে দুর্নীতি ও অর্থায়নের পরিবেশ। ৬৮ শতাংশ ব্যবসায়ী দুর্নীতিকে এবং ৬৬ শতাংশ ব্যবসায়ী সীমিত অর্থায়নের সুযোগকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরো প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে ১২টি বিষয়ের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সুশাসন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, অর্থায়নের পরিবেশ, বৈদেশিক বাণিজ্য, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, ব্যবসায় পরিচালনা, নিরাপত্তা, ঝুঁকি ইত্যাদি।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে একেক সময় একেকটি সমস্যা বড় হয়ে দাঁড়ায়। একসময় দুর্নীতি ছিল বড় সমস্যা। পরে অবকাঠামো বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন ব্যবসায়ীরা অদক্ষ প্রশাসনকে বড় সমস্যা মনে করছেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সুদৃঢ় করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে গিয়ে যেন কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি না হয়। কারণ আগের শ্রমশক্তি জরিপে দেখা যায়, আমাদের শিল্পে নিয়োগ           কমে গেছে। তিনি আরো বলেন, দক্ষ সরকারি প্রশাসন তৈরি করতে হলে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, দক্ষ ও উন্নয়নমুখী অর্থনীতির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য করার পরিবেশ সহজ করতে হবে। প্রযুক্তির উত্কর্ষ বাড়াতে হবে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নানা ধরনের রূপান্তর প্রয়োজন।