করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান জানান সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অন্যদিকে সাদা দলের সংবাদ সম্মেলনের পর এক প্রশ্নের জবাবে নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস ছামাদ ইত্তেফাককে বলেন, নীল দল নির্বাচনে যাবেই। নীল দল দেশের প্রয়োজন, রাষ্ট্রের প্রয়োজন এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে নির্বাচনে যাবে। নীল দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে। সুতরাং নীল দল নির্বাচনে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। নীল দল এমন দেউলিয়া হয়ে যায় নাই যে, নির্বাচনে যাবে না। তারা নির্বাচন করতে চাইলে করবেন, না চাইলে করবেন না, এটা তাদের অধিকার। এ নিয়ে আমাদের বা অন্য কারো বলার কিছু নেই।
সাদা দলের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঁচ কারণ উল্লেখ করে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আসলে তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। নিজেদের নিরাপদ রাখতে অনেক শিক্ষক ভোট প্রদান করতে আসবেন না। এ ধরনের ঘটনায় প্রতিনিধি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হবে বলে মনে করে সাদা দল। তাছাড়া, গত মার্চ মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ থাকায় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মনে আমাদের সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, ফাইন্যান্স কমিটি এবং অনুষদসমূহের ডিনদের মেয়াদকাল অনেক আগেই অতিবাহিত হলেও তাদের নির্বাচন হয়নি। সেখানে শিক্ষক সমিতির এ নির্বাচন আয়োজন কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তাছাড়া দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ডাকসুর মেয়াদকাল শেষ হওয়ায় ইতিমধ্যে তা বাতিল করা হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতির কারণে সে নির্বাচনও আয়োজন করা যাচ্ছে না।
এদিকে নীল দল নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। নীল দলের প্যানেলের ১৫টি পদে গতকাল এক সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতি পদে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক রহমত উল্লাহ সভাপতি ও সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভুঁইয়া সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন পান।