কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারে জবরদখলকৃত সংরক্ষিত বনের পাঁচ হেক্টর জমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ সময় ডজনেরও বেশি কাঁচা বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। দক্ষিণ বন বিভাগের কক্সবাজার সদর রেঞ্জের কলাতলী শুকনাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান চলে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ বন বিভাগের কক্সবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর সাহা।
সমীর সাহা জানান, কক্সবাজার সদর রেঞ্জের অধিকাংশ জমি পর্যটন এলাকায়। চিহ্নিত অপরাধী, এলাকার প্রভাবশালী লোকজন প্রায়ই এসব জমি দখলের অপচেষ্টা চালায়। বাদ যায় না বনায়নের জমিও। তেমনিভাবে কলাতলীর শুকনাছড়ির সংরক্ষিত বনের ভেতর ঘর করে জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছিল তারা। এ খবর জানার পর কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) নির্দেশে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিট কর্মকর্তা, স্টাফ ও ভিলেজারগণ বৃহস্পতিবারের উচ্ছেদ ও বন দখলমুক্ত করার অভিযানে অংশ নেন। এ সময় ঝিলংঝা মৌজার শুকনাছড়ি এলাকার আরএস ৬৯২ দাগের সরকারি বনভূমিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ হেক্টর জমি উদ্ধার করে বন বিভাগ। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাহাড় কেটে করা ঘরগুলো। অবৈধ দখলদারদের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বন কর্মকর্তা সমীর সাহা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার সদর রেঞ্জের অধিকাংশ জমি মেরিন ড্রাইভের আগে পর্যটন এলাকায় অবস্থিত। সেখানকার পাহাড়ি, সমতল সব ধরনের জমিই মূল্যবান। প্রশাসনকে ধোকা দিয়ে কিছু লোক পরিবেশ রক্ষাকারী সংস্থার ব্যানারে এসব সরকারি জমি দখলে এলাকার প্রভাবশালীদের উত্সাহিত করছে। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিজেদের শখ্য তুলে ধরে তারা অবৈধ দখলদারদের বিশ্বাস অর্জন করে এবং তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় বিপুল অঙ্কের টাকা। পরিবেশ রক্ষার সাইনবোর্ডে আবার গণমাধ্যমের পরিচিতিও প্রদর্শন করে অনেকে। ঝামেলা এড়াতে তাদের এসব অপকর্মের বিষয়ে মুখ খুলতে চান না বন সংশ্লিষ্টরা। এ সুযোগে জমি জবরদখলের ঘটনা বেড়েই চলেছে।