কোয়ারি থেকে বালু-পাথর উত্তোলন সরকারি নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়ায় সিলেট অঞ্চলের শ্রমিক পরিবারের অন্তত ১৫ লাখ সদস্য জীবিকার সংকটে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বালু-পাথর শ্রমিকরা এখন আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আগামী ২২-২৪ ডিসেম্বর সিলেট বিভাগে তিন দিন পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ।
কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশ ধ্বংস, শ্রমিক মৃত্যুসহ নানা অনিয়মের কারণেই পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে প্রাকৃতিক এই সম্পদ অপরিকল্পিতভাবে ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে উত্তোলন করায় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তাই উচ্চ আদালত থেকেও বালু-পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, নিয়মনীতি রক্ষা করে বৈধ লিজ প্রদানের মাধ্যমে বৃহত্তর সিলেটের সব কোয়ারি খুলে দেওয়া হলে করোনাকালীন সময়ে লাখ লাখ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বেঁচে যাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলেন, পরিবেশের পাশাপাশি মানুষকেও বাঁচতে দিতে হবে। পাথর শ্রমিকরা জানান, সিলেটের কোয়ারি এলাকায় এখন কাজ নেই। তারা বলেন, আমরাও পরিবেশ ধ্বংসকারী ‘বোমা’ মেশিনের বিপক্ষে। গুটি কয়েক পরিবেশ ধ্বংসকারীর কারণে মানুষের জীবিকা বন্ধ হতে পারে না। তারা আরো বলেন, আমরা আগের মতো কোদাল, বেলচা দিয়ে বালু-পাথর উত্তোলন করতে চাই। কিন্তু কেউ আমাদের কথা আমলে নেয় না।
পরিবহন মালিকরা বলছেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সিলেটের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। পাথর শ্রমিকদের পাশাপাশি পারিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সংকটে পড়েছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পাথর আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা নেই।
সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল বলেন, সিলেটে কোনো শিল্পকারখানা নেই। এখানকার ট্রাক কেবল পাথর পরিবহনেই ব্যবহূত হয়। পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ায় সিলেটের ট্রাক মালিকরা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যংক ঋণ নিয়ে বিপাকে। তিনি বলেন, সবার স্বার্থেই আমরা পাথর উত্তোলনের দাবি জানিয়েছি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বলেন, সরকার পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করেছে। আদালতেরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফের পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, এটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিষয়।