দুই ভাগ হয়ে যাওয়া গণফোরাম জোড়া লাগছে

পালটাপালটি বহিষ্কার আর নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়া গণফোরাম আবার এক হচ্ছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন বিভক্ত দুই অংশকে জোড়া লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সমঝোতার উদ্যোগে সাড়া দিয়ে দুই পক্ষই পৃথকভাবে ডাকা কাউন্সিল ইতিমধ্যে স্থগিত করেছে। এছাড়া পালটাপালটি সব বহিষ্কারকে ড. কামাল ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করায় দ্বন্দ্ব আপাতত উবে গেছে। দ্বন্দ্ব উতরে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে ড. কামাল আজ শনিবার বেইলি রোডে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

করোনার সংক্রমণের মধ্যেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বর্ধিত সভা শেষে নিজেদের পৃথক অবস্থান ঘোষণা করেন গণফোরামের তিন নেতা-সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুু এবং সাবেক দুই নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। গণফোরামের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াসহ চার জনকে বহিষ্কার করে আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলেরও ঘোষণা দেন তারা। কাউন্সিল সফল করতে মন্টুুকে আহ্বায়ক করে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও গঠন করেন এই সংক্ষুব্ধ অংশটি। সবকিছু বাদ দিয়ে ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজ ড. কামালের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকছেন তারা তিন জনও।

সুব্রত চৌধুরী গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে আমরা সবাই থাকব। স্যার (ড. কামাল) দলে ঐক্যের কথা জানাবেন। এছাড়া দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন।’

আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভক্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উদ্যোগ নেন ড. কামাল। এলক্ষ্যে প্রথমেই ড. কামালের নেতৃত্বাধীন অংশটি ১২ ডিসেম্বর ডাকা কাউন্সিল স্থগিত করে। ১১ নভেম্বর এক বিবৃতিতে কাউন্সিল স্থগিতের এই ঘোষণা দেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া। এরপর ড. কামালের সঙ্গে মন্টু-সাইয়িদ-সুব্রত একাধিকার বৈঠক করেন। তখনই সিদ্ধান্ত হয়, ড. কামাল গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেবেন। সেই ধারাবাহিকতায় ১৩ ডিসেম্বর ড. কামাল নিজের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সাম্প্র্রতিক সময়ে গণফোরামে পালটাপালটি সব বহিষ্কারকে ‘অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘সম্প্র্রতি গণফোরামের অভ্যন্তরে ভুল বুঝাবুঝির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত সমস্যার সমাধানকল্পে সব সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিল হবে।’