সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যান
নাম ম্যাচ রান
লিটন কুমার দাস ১০ ৩৯৩
তামিম ইকবাল ৯ ৩২৪
নাজমুল হোসেন শান্ত ৮ ৩০১
ইয়াসির আলী ৯ ২৯৪
সৌম্য সরকার ১১ ২৯২
সেরা পাঁচ বোলার
নাম ম্যাচ রান
মুস্তাফিজুর রহমান ১০ ২২
মুক্তার আলী ১০ ১৭
কামরুল ইসলাম রাব্বি ৯ ১৬
শরীফুল ইসলাম ১০ ১৬
শহীদুল ইসলাম ৮ ১৫
টুর্নামেন্ট সেরা : মুস্তাফিজুর রহমান
সেরা ব্যাটসম্যান : লিটন কুমার দাস
সেরা বোলার : মুস্তাফিজুর রহমান
বিশেষ পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড: নাজমুল হোসেন শান্ত, পারভেজ হোসেন ইমন, শরীফুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম রবি।
জান-ই-আলম
ক্রিকেট—নিছকই একটা খেলামাত্র। কিন্তু কখনো কখনো তা জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। আবার জীবনের ঘটনাপ্রবাহ অনেক সময় মাঠের গল্পের দৃশ্যপট রাঙিয়ে তোলে।
বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের ফাইনালে জেমকন খুলনার হয়ে শহীদুল ইসলামের খেলার গল্পটা নিশ্চিতভাবেই আপনার মনকে প্লাবিত করবে সাহসিকতায়, মানসিক দৃঢ়তায়। শোনাবে জীবনের জয়গান।
গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে শহীদুলের বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে বরিশাল নিয়ে দাফন করা হয় মরহুমকে। বরিশালে দাফনের পর পরিবার থেকেই শহীদুলকে জানানো হয়, প্রয়াত বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলের দল ফাইনালে খেলবে এবং চ্যাম্পিয়ন হবে। মৃত্যুর আগে খুলনার খেলা দেখে এমনটাই বলেছিলেন তিনি।
এর মধ্যে টুর্নামেন্টের প্রথম কোয়ালিফায়ারটা হাতছাড়া হয়ে গেছে। সবার কথা শুনে বাবার অন্তিম ইচ্ছা পূরণে বেদনার্ত হূদয়ে ছুটলেন শহীদুল। পিতৃশোককে সাহস, শক্তিতে পরিণত করে রাতের আঁধারে প্রাইভেট কারে মাওয়া ঘাটে আসেন তিনি। পরে সকালে এসে টিম হোটেলে ওঠেন।
তারপর তিন দিন হোটেল রুমে একাকী বন্দি। আইসোলেশনে থেকে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিলেন কয়েক বার। হালকা জিমের কাজ হয়েছে রুমেই। ম্যাচের আগে ক্ষণিকের স্পট বোলিং। এসবকে সম্বল করেই বারুদেঠাসা গত শুক্রবার ফাইনাল খেলতে নেমে পড়েন শহীদুল। ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ১, বোলিংয়ে ৪ ওভারে ৩৩ রানে ২ উইকেট—এই পরিসংখ্যান অবশ্য খুলনার শিরোপা জয়ে শহীদুলের বীরত্বকে তুলে ধরতে পারবে না।
ম্যাচের শেষ ওভারে ১৬ রান দরকার ছিল চট্টগ্রামের, ডান-হাতি এই পেসার দিয়েছেন ১০ রান। আউট করেছেন সৈকত আলী, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে।
শিরোপা জয়ের উত্সবে সতীর্থদের উল্লাসের ভিড়ে শহীদুলের চোখে ঝরে প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারার আনন্দ অশ্রু। অসীমের দেশে পাড়ি জমানো পিতা নিশ্চয়ই তখন ছেলের সাফল্যে দিগন্তজোড়া হাসিতে মেতে উঠেছেন।
বাবাকে হারানোর এই কঠিন মুহূর্তে আবার খেলায় ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল শহীদুল বলেছেন, ‘আমার ধারণা ছিল, হয়তো আমি আসতে পারব না। যাওয়ার পর বাসা থেকে শুনলাম, আব্বা খেলা দেখার সময় বলছিল—‘দেখবে ওরা ঠিকই ফাইনালে যাবে, ফাইনালে গেলে ওরা ঠিকই চ্যাম্পিয়ন হবে। আসলে আমার খুব ইচ্ছা ছিল না, তবে বাসা থেকে সবাই বলছে, তোর আব্বা তোর খেলা খুব পছন্দ করত। তুই যা সমস্যা নাই, আমরা এখানে ঠিক আছি।’
অনুশীলন ছাড়াই খেলতে নামার আত্মবিশ্বাস নিয়ে ২৫ বছর বয়সি এই পেসার বলেন, ‘খেলা থেকে যাওয়ার আগে তো ভালো অবস্থানে ছিলাম। আত্মবিশ্বাস ছিল যে, হবে ইনশাল্লাহ। ম্যাচের আগে কিছুক্ষণ স্পট বোলিং করেছিলাম।’
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী ওভারের আগে মাশরাফির কথায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন শহীদুল।
তিনি বলেছেন, ‘মাশরাফি ভাই বলতেছিল যে, তুই পারবি সমস্যা নাই, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখ। আর বাবার কথা চিন্তা কর। তখন মাথায় চিন্তা আসছে যে, আব্বা স্বপ্ন দেখত, দেখি বাবার স্বপ্নটা সত্যি করতে পারি কিনা।’
এখনই জাতীয় দল নিয়ে ভাবছেন না কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা শহীদুল। তবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তার মনেও আশার সঞ্চার করছে। দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার অপেক্ষায় এখন অদম্য শহীদুল।