কমে যাচ্ছে তাল সড়কের তালগাছ

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

তাড়াশে পরিচর্যার অভাবে কমে যাচ্ছে তাল সড়কের তালগাছ। দেখা গেছে, ভূঁইয়াগাতী থেকে নিমগাছী পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের অনেক গাছই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান মিঞার তাল সড়ক যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক নৈসর্গিক দৃশ্যপট। কিন্তু পরিচর্যার অভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে পরিবেশবান্ধব ও বজ পাত থেকে জীবন রক্ষাকারী তালগাছগুলো। শতবর্ষী বীর মুক্তিযাদ্ধা আব্দুর রহমান মিঞা জানান, ১৯৭৩-৭৪ সালে তিনি ছিলেন তাড়াশের মাধাইনগর (সদর) ইউনিয়নের মনোনীত চেয়ারম্যান। ১৯৭৫-৮৪ পর্যন্ত দুই দফায় ৯ বছর ছিলেন নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ঐ সময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তালবীজ সংগ্রহ করে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাড়াশ সদর থেকে ভূঁইয়াগাতী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে সারিবদ্ধভাবে ১০ ফুট পরপর প্রায় ১৪ হাজার তালবীজ রোপণ করেন। এ কাজে তার সময়ে লেগে যায় প্রায় দুই বছরের মতো। যার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৮ সালে বৃক্ষরোপণে সফলতার জন্য তাকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূঁইয়াগাতী থেকে নিমগাছী পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের অনেক গাছই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে নিমগাছী থেকে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়কে এখনো কয়েক হাজার তালগাছ দর্শনীয় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে।

আব্দুর রহমান মিঞা আরো বলেন, অপেক্ষাকৃত নিচু একটি জনপদের নাম চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলা। ঐ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম তাড়াশ-ভূঁইয়াগাতী সড়কটিকে বন্যায় ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য সড়কের দুই ধারে তালবীজ রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু আজকের দিনে তালগাছ বজ পাতের মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জীবন বাঁচাতে কার্যকরী ভূমিকা রেখে চলেছে। তাই অবশিষ্ট গাছগুলোর সঠিক পরিচর্যা করে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।

উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুজ্জামান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, তাল সড়কের একটি গাছও যেন পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হয়ে না যায়, সেদিকে যথাযথ নজর দেওয়া হবে।