মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসে হাড়-কঙ্কাল!

কুমিল্লার টিক্কারচর বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থান

২০ বছরে দাফন হয়েছে

২৪৯১ অজ্ঞাত লাশ

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা মহানগরীর টিক্কারচর কবরস্থানে লাশ দাফনের তিলমাত্র ঠাঁই নেই। কুমিল্লায় বেওয়ারিশ লাশ দাফনের একমাত্র এ কবরস্থানের মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসে লাশের মাথার খুলি ও দেহের বিভিন্ন অংশের হাড়-কঙ্কাল। গতকাল শনিবার পর্যন্ত গত ২০ বছরে এ কবরস্থানে বেওয়ারিশ (অজ্ঞাতনামা) ২ হাজার ৪৯১ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। এ কবরস্থান পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম (ইসলামী জনকল্যাণ সংস্থা) কুমিল্লা শাখা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, জেলায় অজ্ঞাত (নাম ও পরিচয়হীন) লাশের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। নদী-নালা, ঝোঁপ-জঙ্গল, খাল-বিল, মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও রেলওয়ে সড়কের পাশ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রায়ই উদ্ধার করছেন অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ। পুলিশের তথ্যমতে, হত্যা-দুর্ঘটনার শিকার এসব মানুষ। পুলিশ ২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ১৯ ডিসেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত জেলার ১৭টি উপজেলা এলাকা থেকে ২ হাজার ৪৯১টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম কুমিল্লা শাখার মাধ্যমে নগরীর এই কবরস্থানে এসব বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম কুমিল্লা শাখার সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নগরীর টিক্কারচর এলাকায় তত্কালীন পৌর কর্তৃপক্ষের (বর্তমানে সিটি করপোরেশন) দেওয়া মাত্র ১০ শতক জমির ওপর ১৯২৯ সালে এ কবরস্থান স্থাপিত হয়। এটি জেলার বেওয়ারিশ (অজ্ঞাতনামা) লাশ দাফনের একমাত্র করবস্থান। গত ২০ বছরে এখানে ২৪৯১ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে, এর মধ্যে নারীর লাশ প্রায় অর্ধেক। তিনি আরো বলেন, নতুন কবর খনন করার সময় কোদাল চালাতেই বের হয়ে আসে পুরোনো লাশ কিংবা লাশের হাড়-কঙ্কাল। এখন এ কবরস্থানে আর লাশ দাফনের জায়গা নেই। তাই পুরুষ ও নারীর কবর দেওয়ার জন্য ইসলামী শরিয়া মোতাবেক যেটুকু কবর খনন দরকার তা সম্ভব হয় না। প্রতিষ্ঠানের এ শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল হাসেম বলেন, ‘দিনে দিনে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা বাড়লেও এই কবরস্থানের পরিধি বাড়েনি। ফলে লাশ কবরস্থ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিড়ম্বনা। তাই বিকল্প জায়গায় নতুন কবরস্থান করা প্রয়োজন। কুমিল্লা মহানগর ও আদর্শ সদর উপজেলা এলাকায় সরকারের অনেক পরিত্যক্ত জায়গা আছে। এক খণ্ড জায়গা বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে, তা পাওয়া গেলে বেওয়ারিশ লাশ দাফনে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘নগরীতে আরো গণকবরস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে। টমছমব্রিজ কবরস্থান সম্প্রসারণ করতে ৬০ লাখ টাকার জমি কেনা হয়েছে। তবে বেওয়ারিশ লাশ দাফনের টিক্কারচর কবরস্থানটির উন্নয়নের জন্য সহসা কাজ শুরু করা হবে।’