চিকিত্সকসহ জনবলের সংকটে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত

নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা সংকটে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাসপাতালে আগত সেবাপ্রত্যাশীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), চক্ষু, ইএনটি, কার্ডিওলজি, অর্থো-সার্জারি, শিশু, চর্ম ও যৌন, অ্যানেসথেসিয়া, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, মেডিক্যাল অফিসার, সহকারী সার্জন (এমও ) ও এএমসি এবং একজন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সহকারী সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তত ১৬ জন চিকিত্সকের পদ শূন্য রয়েছে। তাছাড়া, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, হিসাব রক্ষক ও ক্যাশিয়ার, পরিসংখ্যানবিদ, স্টোর কিপার, এসএসিএম, এমটি ল্যাব, এমটি রেডিওলজি, ডেন্টাল, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী নার্স, গাড়িচালক, টিকিট ক্লার্ক, কার্ডিওগ্রাফার ও জুনিয়র মেকানিক, তিন জন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর দুই জন ফার্মাসিস্ট, ১৯ জন স্বাস্থ্য সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে। এছাড়াও ৪র্থ শ্রেণির ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, ওয়ার্ড বয়, বাবুর্চি, সহকারী বাবুর্চি, আয়া, তিন জন অফিস সহায়ক, তিন জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও দুজন সিকিউরিটি গার্ডের পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরিদ্র প্রসূতি মায়েদের জন্য সিজারিয়ান অপারেশন চালু হলেও অ্যানেসথেসিয়া চিকিত্সক না থাকায় দীর্ঘ দিন থেকে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে, ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের অপারেটর রেডিওলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার ও সনোলজিস্টের পদে লোকবল না থাকায় মেশিনগুলো চালানো হচ্ছে না। ফলে রোগীরা এসব সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তৃণমূল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবায় ছয় জন চিকিত্সক নিযুক্ত থাকলেও তাদের বসার সুব্যবস্থা না থাকায় তারা কর্মস্থলে বসেন না।

গত মঙ্গলবার হাসপাতালের বহির্বিভাগে আগত রোগী রুজিনা, আবদুর রহিমের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, হাসপাতালে বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখালেও এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে ( প্রাইভেট হাসপাতালে) গিয়ে করাতে হয়। এতে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এছাড়া মাজেদা আক্তার তার মেয়ে মারুফাকে (৬) নাকের সমস্যা নিয়ে ইএনটি চিকিত্সক এবং শিরিনা আক্তার তার মেয়ে ইকরাকে (২ মাস) শিশু চিকিত্সককে দেখাতে নিয়ে এলেও ইএনটি ও শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় তারা মেডিক্যাল অফিসার মাহফুজুর রহমান রিজভীকে দেখান বলে জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব দাস দেব বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিত্সকসহ জনবল ও নানাবিধ সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হলেও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।