হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু
কক্সবাজার প্রতিনিধি
রোগ নিরীক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে আবারও হাম রোগের সংখ্যা বেড়ে যায়। কক্সবাজারে ২০১৯ সালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাওয়া যায় ৩১২ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সব বিবেচনায় কক্সবাজারকে চিহ্নিত করা হয়েছে হামের রেড জোন হিসেবে। তাই হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২০ সফল করতে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় সপ্তাহ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা ইপিআই সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এবার জেলায় ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫২৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। যেখানে ৯ মাস থেকে পাঁচ বছরের শিশু ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৬ জন এবং পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরের ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৯ শিশুকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে এ টিকা দেওয়া হবে। সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে টিকাদান ক্যাম্পেইনে জেলায় ৯টি নির্ধারিত এবং ৫ হাজার ৭৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রসহ মোট ৫ হাজার ৭৬৯টি কেন্দ্র থেকে এ সেবা দেওয়া হবে। যেখানে স্বাস্থ্যকর্মী থাকবে ১১ হাজার ৫৩৮ জন। তাদের সহযোগী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী থাকবে ১৭ হাজার ৩০৭ জন।
এতে আরো জানানো হয়, হাম-রুবেলা ভাইরাসজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। শিশু ছাড়াও যেকোনো বয়সের মানুষ হাম-রুবেলায় আক্রান্ত হতে পারে। তবে, শিশুদের মধ্যে হাম-রুবেলার প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যুর হার বেশি। হামের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনকেফালাইটিস, অন্ধত্ব ও বধিরতা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া গর্ভবতী মা প্রথম তিন মাসে রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে গর্ভের শিশু আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে গর্ভপাত বা গর্ভের শিশুর মৃত্যু বা বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে শিশু জন্ম নিতে পারে। এসব প্রতিরোধে নিয়মিত টিকার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুসার ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, যদি শিশুদের মাঝে মধ্যে জ্বর আসে, জ্বর আসার তিন দিনের মধ্যে শরীরে লাল লাল গুটি দেখা দেয়-তখন ধরে নিতে হবে শিশুটি হাম রেগে আক্রান্ত। তবে নিশ্চিত হতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। জটিল এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে সঠিক সময়ে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া আবশ্যক। গর্ভবতী নারী ছাড়া সব বয়সি মানুষ এ টিকা দিতে পারেন। সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার সৌনম বড়ুয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কক্সবাজারের সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইস্যুনাইজেশন মেডিক্যাল অফিসার সুরাইয়া আকতার জেমি, ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্লান কক্সবাজারের হেলথ কো-অর্ডিনেটর এস এম জামসেদুল হক, স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কো-অর্ডিনেটর সেন্টার কক্সবাজারের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. খায়রুল ইসলাম প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন।