পরিবহন ও আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা

পরিবহন ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত না করে চূড়ান্ত পরীক্ষার সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের একমাত্র অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়মিত যাতায়াতের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও সুবিধা পাবেন না শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পরীক্ষা বাবদ ফি আদায়ের বিজ্ঞপ্তিতে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ভর্তি ও পরীক্ষা বাবদ ফি মওকুফে উপাচার্যের বরাবর লিখিত আবেদন জানালেও তাতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

গত ১৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠিতব্য অনার্স চতুর্থ বর্ষের শেষ সেমিস্টার এবং মাস্টার্স শেষ সেমিস্টার পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে আসা-যাওয়া করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার্থীদের জন্য মহামারি করোনার কারণে পরিবহন সুবিধা দেওয়া হবে না।

এদিকে গত ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পর থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের মেস-বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ লকডাউনে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাসা ও মেস ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। বন্ধের আগে অনেকেই পার্টটাইম চাকরি ও টিউশনি করে খরচ বহন করতেন। করোনায় এসব বন্ধ হয়ে যায়। অনেকেই বাসাভাড়া নিয়ে ঝামেলায় পড়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও বাড়িওয়ালাদের আন্তরিকতায় সমস্যা কিছুটা মিটলেও এখন আবার সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

এর মধ্যে ছাত্রীদের একটি হল উদ্বোধন করার খবরে অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থী নতুন করে মেস-বাসা নেননি। পরীক্ষার রুটিন দেওয়ায় নতুন করে বাসা খোঁজা শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন বাসায় উঠতে মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন। এদিকে পরীক্ষার রুটিন দেওয়ায় পরীক্ষার ফি বাবদ টাকাও দেওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে। এই দুঃসময়ে নতুন বাসা ও পরীক্ষার ফি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ফি মওকুফে উপাচার্যের কাছে লিখিত দাবি জানিয়ে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সার্বিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ডিনস কমিটির সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটাই বাস্তবায়ন হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা ও টিউশন ফি মওকুফের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও স্বীকার করেন।