বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া শোকজ নোটিশে ‘অসৌজন্যমূলক’ ভাষা ব্যবহারে হতবাক হয়েছেন বলে জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, চিঠি পেয়ে অপমান বোধ করে পদত্যাগের কথা ভেবেছিলাম। তবে নেতাকর্মীদের অনুরোধে এখন পদত্যাগ করলাম না। আমার চিঠির জবাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেন, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোণঠাসা করে রাখার জন্য একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের তোষামোদি ছেড়ে মুখ খোলার আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার বনানীর নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এসব কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে বিএনপি আনীত ১১টি অভিযোগের লিখিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্যের তদন্তসহ বেশ কিছু সুপারিশও করেন। ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই দলের জাতীয় কাউন্সিল করারও দাবি জানান।
হাফিজ বলেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যানকে এক জন যুগ্ম-মহাসচিব (আদিষ্ট না হয়েও) এমন কঠিন, আক্রমণাত্মক ভাষায় কৈফিয়ত তলব করায় অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি। এখানে প্রটোকল ও সৌজন্যের ব্যত্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, এক জন যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বিজয়ের মাসে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে অসৌজন্যমূলক ভাষায় অসত্য অভিযোগসংবলিত কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে হতবাক হয়েছি। ব্যক্তি রুহুল কবির রিজভী এক জন ভদ্র, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা, তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার কাছ থেকে এ ধরনের চিঠি আশা করিনি। আমার বিনীত অনুরোধ, আমার বক্তব্য স্থায়ী কমিটির সদস্যের সামনে উপস্থাপন করা হোক। বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে যদি দোষী সাব্যস্ত করা হয়, আমি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছি। আমি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সর্বদাই শ্রদ্ধা পোষণ করি।
হাফিজ উদ্দিন আরো বলেন, জনগণ মনে করে, যে নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া উচিত ছিল সেটি বর্জন করেছে এবং যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিরর্থক সেটিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী সরকারকে বৈধ্যতা দিয়েছে। মিডনাইট ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর মাত্র পাঁচটি আসনে নির্বাচিত বিএনপি দলীয় এমপিদের সংসদের অধিবেশনে যোগ দেওয়া উচিত হয়নি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এ দুটি প্রধান দলেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই।
শোকজ নোটিশের লিখিত জবাবে হাফিজ বলেন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় আমি দলীয় স্বার্থ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো বক্তব্য দিইনি। এখানে আমাদের বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রায়ই বিকৃত এবং খণ্ডতভাবে প্রচার করা হয়। আমি ৩৪ বছর যাবত্ রাজনীতি করছি, কখনো কারো বিরুদ্ধে এমনকি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য রাখিনি। আমি কখনোই খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমান সম্পর্কে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য রাখিনি। এ ধরনের ঢালাও অভিযোগ এনে আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলে মনে করি। তিনি বলেন, বিএনপিকে দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা আমি কখনো করিনি বরং দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের চিন্তা করতে বলি, দেশের জনপ্রিয় দল বিএনপি কেন আজকে ক্ষমতার বাইরে? কারা এর জন্য দায়ী? চিন্তা করেন, মূক ও বধির না হয়ে চিন্তা করেন। দলকে ভালোর জন্য কনট্রিবিউট করেন। দলকে সাজেশন দেন, কী করা উচিত। কেবল তোষামোদ করে দায়িত্ব শেষ করবেন না। সংবাদ সম্মেলনে হাফিজের সঙ্গে ভোলার লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলার জাকির হোসেন, শাহাদাত হোসেন, বাবুল পাঞ্চায়েতসহ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ১৪ ডিসেম্বর হঠাত্ রাজধানীতে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মুক্তাঙ্গনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে সরকারের পতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এর পরই দলের পক্ষ থেকে দুই ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ও শওকত মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।